কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Mahua Moitra)পশ্চিমবঙ্গ সফর নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যের মুসলিম আইএএস ও আইপিএস কর্মকর্তাদের ধর্মের কারণে শাহের সঙ্গে বৈঠক ও সরকারি অনুষ্ঠান থেকে দূরে রাখা হয়েছে। এই অভিযোগ নিয়ে তিনি রাষ্ট্রসংঘের সংখ্যালঘু বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের কাছে চিঠি লিখেছেন।
মৈত্রের চিঠিতে বলা হয়েছে, জুলাই ও আগস্ট মাসে শাহের দুইবারের সফরে অন্তত সাতটি ঘটনা ঘটেছে। তিনজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে বৈঠক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা অংশ নিতে বলা হয়নি। এঁরা হলেন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা, রাজ্যের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের প্রধান জাভেদ শামিম এবং আইএএস কর্মকর্তা খলিল আহমেদ। মৈত্রের ভাষায়, এই তিনজনের একমাত্র সাধারণ বিষয় হল তাঁদের ধর্ম।
আরও দেখুনঃ
অন্য ধর্মের কর্মকর্তারা সেই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। (Mahua Moitra )একটি ঘটনায় শিলিগুড়িতে সীমান্ত নিরাপত্তা পর্যালোচনা বৈঠকে ওয়াকার রাজাকে ডিজিপি সিদ্ধনাথ গুপ্ত সরিয়ে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। অন্য আরেকটি ক্ষেত্রে তাঁকে স্বাগত জানানোর লাইনে রাখা হয়নি। জাভেদ শামিমকেও কয়েকটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। মৈত্র বলেছেন, এই কর্মকর্তাদের উপস্থিতি তাঁদের পদের দায়িত্ব অনুযায়ী জরুরি ছিল।
তবু তাঁদের দূরে রাখা হয়েছে।তিনি জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশনেও চিঠি দিয়েছেন। রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক নিকোলাস লেভরাতের কাছে লেখা চিঠিতে সিসিটিভি ফুটেজ ও সরকারি নথি সংরক্ষণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। মৈত্রের মতে, মেধার ভিত্তিতে উন্নীত এই কর্মকর্তাদের ধর্মের কারণে সন্দেহের চোখে দেখা হলে প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় নেতিবাচক বার্তা যায়।এই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এটিকে বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে। (Mahua Moitra)অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকার বা বিজেপি নেতৃত্ব থেকে এখনও কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও নীরব। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।মহুয়া মৈত্রের এই পদক্ষেপ অমিত শাহের নামকে বারবার আলোচনায় এনেছে। বিরোধী দলের সাংসদ নিজেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
ফলে শাহের নাম সংবাদমাধ্যম ও রাজনৈতিক আলোচনায় ঘুরেফিরে আসছে। সমালোচকরা বলছেন, এটি রাজনৈতিক কৌশল। সমর্থকরা বলছেন, এটি সংখ্যালঘু কর্মকর্তাদের অধিকার রক্ষার লড়াই।পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনে ধর্মীয় বৈষম্যের অভিযোগ নতুন নয়। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এমন নির্দিষ্ট অভিযোগ উঠলে তা আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। সরকারি বৈঠকে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নির্ধারণের প্রক্রিয়া কীভাবে হয়, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা দাবি করছেন অনেকে।
সিসিটিভি ও নথি সংরক্ষণের অনুরোধও সেই স্বচ্ছতার অংশ।এই বিতর্ক শুধু দুই দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নও উঠেছে। মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা করা হলে তা সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেকে। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠকে উপস্থিতি নির্ধারণের নিজস্ব যুক্তি থাকতে পারে।
