পাহাড় ফুঁসলেই ধুয়েমুছে যাবে সমতল! নেপালের প্রলয়ের পরই বাংলা নিয়ে ভয়াবহ সতর্কবার্তা

শিলিগুড়ি: নেপাল-তিব্বত সীমান্তের সাম্প্রতিক হিমবাহ ধস ও হড়পা বান চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল পূর্ব হিমালয়ের বুকে লুকিয়ে থাকা এক মহাবিপদকে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, পাহাড়ে…

শিলিগুড়ি: নেপাল-তিব্বত সীমান্তের সাম্প্রতিক হিমবাহ ধস ও হড়পা বান চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল পূর্ব হিমালয়ের বুকে লুকিয়ে থাকা এক মহাবিপদকে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, পাহাড়ে একটি মাত্র প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে আরও অনেক বড় ধ্বংসলীলা। আর এই ‘ক্যাসকেডিং’ (Cascading) বা শৃঙ্খল বিপর্যয়ের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে দার্জিলিং-সহ গোটা উত্তরবঙ্গ।

Advertisements

দার্জিলিঙে সরাসরি বড় হিমবাহ হ্রদ না থাকলেও, এই এলাকা ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত অস্থিতিশীল এবং উচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ (সিসমিক জোন-৪)-এর অন্তর্গত। তার ওপর খাড়াই ঢাল এবং বর্ষার অতিবৃষ্টি ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যেমন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে মাত্র ১২ ঘণ্টার রেকর্ড বৃষ্টিতে ধস নেমে দার্জিলিঙে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

   

বিজ্ঞানীদের মতে, পাহাড়ে বড়সড় ভূমিকম্প বা ধস নামলে নদীর গতিপথ আটকে কৃত্রিম হ্রদ তৈরি হতে পারে। পরে সেই হ্রদ ফেটে গিয়ে নিম্নাংশে আচমকা হড়পা বান দেখা দেওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিকিমের দক্ষিণ লোনাক হ্রদ ফেটে তিস্তায় যে ভয়াবহ হড়পা বান এসেছিল এবং কালিম্পংয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, তা এই চেইন বিপর্যয়েরই জ্বলন্ত প্রমাণ।

‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট’ (ICIMOD) সতর্ক করেছে, ২০৫০ সালের মধ্যে এই অঞ্চলে ‘GLOF’ (Glacial Lake Outburst Flood) বা হিমবাহ হ্রদ ফেটে বন্যার ঝুঁকি সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে গলে যাচ্ছে হিমবাহ, বদলাচ্ছে মাটির চরিত্র। এই পরিস্থিতিতে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং ভূমিকম্প, ধস এবং বন্যা মোকাবিলায় পাহাড় থেকে সমতল পর্যন্ত একটানা আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা (Early Warning System) ও সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।

Advertisements

থাকবে না ডলারের চিহ্ন! কেন গুরুত্বপূর্ণ BRICS র এই সম্মেলন ?

‘মুসলিম পরিবারের বিষয়’! ভারতের উদ্বেগ উড়িয়ে পাক-সৌদি সামরিক জোটে আগ্রহী ঢাকা

Advertisements