নয়াদিল্লি: বিদায়ের ঠিক আগে ফের একবার ফুঁসে উঠতে চলেছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। বর্ষাকালের অন্তিম লগ্নে এসে আগামী ১২ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশের মধ্য, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম ভারতে প্রবল বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। শুধু ভারীবৃষ্টিই নয়, এই ১০ দিন বজ্রপাত এবং ঝোড়ো হাওয়ারও দাপট থাকবে বলে বিভিন্ন ওয়েদার মডেলের ইশারায় স্পষ্ট।
কী বলছে স্যাটেলাইট চিত্র?
INSAT-3D স্যাটেলাইটের সাম্প্রতিক ইমেজে দেখা যাচ্ছে, ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অংশজুড়ে মেঘের আস্তরণ অনেকটাই হালকা হয়ে এসেছে। তবে পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলে এখনও সক্রিয় রয়েছে বর্ষার মেঘ। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর, এই চার মাসই দেশের বর্ষাকাল। সেই হিসেবে মৌসুমী বায়ু তার বিদায়লগ্নে এসে পৌঁছেছে। তবে এই অন্তিম পর্বের মুষলধারে বৃষ্টি সত্ত্বেও ছাব্বিশ সালের বর্ষার সার্বিক চিত্রটা খুব একটা বদলাচ্ছে না। চলতি মরশুমে এখনও পর্যন্ত দেশজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৪ শতাংশ বৃষ্টির ঘাটতি রয়েছে। আইএমডি (IMD)-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, শক্তিশালী ‘এল নিনো’ (El Nino)-র সক্রিয়তার জন্যই এবছর বৃষ্টির এই ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
কবে থেকে শুরু এবং কোথায় প্রভাব?
আবহাওয়াবিদদের মতে, ১২ থেকে ২১ সেপ্টেম্বরের এই ঝোড়ো বৃষ্টির স্পেল শুরু হবে মূলত উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকেই। এরপর ক্রমান্বয়ে তা ছড়িয়ে পড়বে দক্ষিণ এবং পরিশেষে পূর্ব ভারতে। এই বৃষ্টিই চলতি মরশুমের শেষ বা ফাইনাল স্পেল হতে চলেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই পর্ব মিটলেই উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে পাকাপাকিভাবে বর্ষা বিদায়ের পথ প্রশস্ত হবে। এরপর একে একে মধ্য এবং পূর্ব ভারত থেকেও বিদায় নেবে মৌসুমী বায়ু।
কৃষকদের জন্য স্বস্তি, ভ্যাপসা গরম থেকে মুক্তি
অনিয়মিত ও কম বৃষ্টির এই মরশুমে শেষবেলার এই বৃষ্টি কৃষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকা বৃষ্টির জলের ওপর নির্ভরশীল, সেখানে ফসলের বৃদ্ধির এই পর্যায়ে মাটির আর্দ্রতা বজায় রাখতে দারুণ সহায়ক হবে সেপ্টেম্বরের এই স্পেল। এর ফলে মার খাওয়া কৃষি উৎপাদনে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে। সব মিলিয়ে, বর্ষার এই ‘মরণ কামড়’ বা শেষবেলার ঝোড়ো ব্যাটিং একদিকে যেমন ভ্যাপসা গরম থেকে সাময়িক মুক্তি দেবে, তেমনই বিদায়ের আগে দেশকে ভালোমতো ভিজিয়ে যাওয়ারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দুর্গাপুজোর আগেই মিলবে ২০ শতাংশ বোনাস, চা শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
মালদায় গঙ্গার ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাস, তলিয়ে গেল ১০০ বছরের পুরনো ভূতনি চর
