পিএনবি-র গোপন ভল্টে ১৭ কোটিরও বেশি জাল নোট! এনআইএ-র জালে ব্যাংক ম্যানেজার

লখনউ/সাহাড়ানপুর: উত্তরপ্রদেশের সাহাড়ানপুরে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB)-এর একটি কারেন্সি চেস্ট বা ভল্ট থেকে প্রায় ১৭.২৯ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে গতি এনেছে জাতীয়…

লখনউ/সাহাড়ানপুর: উত্তরপ্রদেশের সাহাড়ানপুরে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক (PNB)-এর একটি কারেন্সি চেস্ট বা ভল্ট থেকে প্রায় ১৭.২৯ কোটি টাকার জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে গতি এনেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। ব্যাংক ব্যবস্থার অন্দরে শিকড় গেড়ে থাকা কোনো গভীর চক্র এর নেপথ্যে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে শুরু হয়েছে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ। এই চাঞ্চল্যকর মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তথা পিএনবি-র জগধরী কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমারকে চণ্ডীগড় থেকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ।

Advertisements

ভল্টের ভেতর থেকে জাল নোট উদ্ধার

তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, সাহাড়ানপুরের সোফিয়া মার্কেট এলাকার পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের কারেন্সি চেস্টের ভেতরে অস্বাভাবিক পরিমাণে জাল ভারতীয় মুদ্রা গচ্ছিত থাকার বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। সাধারণত জাল নোটের কারবার সীমান্ত বা ক্যুরিয়ারের মাধ্যমে পাচারের ক্ষেত্রে ধরা পড়ে, তবে খোদ ব্যাংকের সুরক্ষিত ভল্টের ভেতর থেকে এত বিপুল পরিমাণ জাল নোট উদ্ধারের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি।

   

প্রাথমিক তদন্তের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে যে তিন শীর্ষ আধিকারিককে বরখাস্ত করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, পিএনবি-র সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার রবি কুমার কানসে, সোফিয়া মার্কেট কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার সুশীল কুমার এবং জগধরী কারেন্সি চেস্টের ম্যানেজার অমিত কুমার। গত ৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি নিজেদের হাতে তুলে নেয় এনআইএ। এরপর থেকেই পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয় এবং অবশেষে চণ্ডীগড় থেকে অমিত কুমারকে গ্রেফতার করে বিশেষ এনআইএ আদালতে পেশ করা হয়।

ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমেই কি জালিয়াতি?

কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ জাল নোট ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ লেনদেন চক্রে প্রবেশ করল, সেটাই এখন মূল ভাবনার বিষয় তদন্তকারীদের কাছে। তথ্য বলছে, গত ৬ জুলাই সাহাড়ানপুর থেকে প্রায় ১১১ কোটি টাকা রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-র জয়পুর অফিসে পাঠানো হয়েছিল। ওই চালানের মধ্যে ৫০০০ ও ২০০ টাকার বান্ডিলে সন্দেহভাজন জালিয়াতির যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া, এই ভল্ট থেকে অন্য কোনো ব্যাংক শাখা বা এটিএমের মাধ্যমে জাল নোট সাধারণ মানুষের হাতে বা বাজারে ছড়িয়ে পড়েছিল কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে।

Advertisements

নেপাল যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

গোটা ঘটনার পেছনে আন্তঃদেশীয় কোনো চক্র বা নেপাল সীমান্ত ঘেঁষা কোনো অপরাধ যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি। অভিযুক্তদের চলাফেরা এবং ফোন কলের রেকর্ড খতিয়ে দেখে এই জালিয়াতির আসল মাথাদের পাকড়াও করার চেষ্টা চলছে। ব্যাংকের অন্দরে থাকা এই মেগা জালিয়াতির জাল কত দূর বিস্তৃত, এনআইএ-র পরবর্তী পদক্ষেপে সেটাই এখন দেখার।

পাঞ্জাব থেকে নাম কাটার পরেই দিল্লির ভোটার তালিকায় রাঘব চড্ডা! তুঙ্গে তরজা

মার্চে গ্রেফতার হওয়া ম্যাথু ভ্যানডাইক সহ ৬ ইউক্রেনিওর বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ চার্জশিট দাখিল করল NIA

Advertisements