সংসদে পাস MSME সংশোধনী বিল ২০২৬, ক্ষুদ্র শিল্পের বকেয়া মেটাতে নতুন নিয়ম

নয়াদিল্লি: ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) খাতের বকেয়া পরিশোধের সমস্যা সমাধান এবং বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস ডেভেলপমেন্ট…

msme-amendment-bill-2026-passed-payment-rules-treds-arbitration

নয়াদিল্লি: ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) খাতের বকেয়া পরিশোধের সমস্যা সমাধান এবং বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে মাইক্রো, স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস ডেভেলপমেন্ট (সংশোধনী) বিল, ২০২৬ সংসদের উভয় কক্ষে পাস হয়েছে। সোমবার রাজ্যসভায় বিলটি অনুমোদনের পর শুক্রবার লোকসভাও বিলটি পাস করে।

Advertisements

লোকসভা দুপুর ১২টায় পুনরায় বসার পর কেন্দ্রীয় MSME মন্ত্রী জিতন রাম মাঁঝি বিলটি উত্থাপন করেন। ২০০৬ সালের MSME আইন সংশোধনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থাগুলির পাওনা দ্রুত মেটানো এবং বিরোধ নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্দিষ্ট করাই এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য।

   

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর সংস্থাগুলিকে (CPSU) MSME-র কাছ থেকে পণ্য বা পরিষেবা কেনার ক্ষেত্রে সমস্ত বিল Trade Receivables Discounting System (TReDS)-এর মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। এর ফলে ক্ষুদ্র শিল্প সংস্থাগুলি দ্রুত অর্থ পাওয়ার সুযোগ পাবে।

বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতা (Mediation) ব্যর্থ হলে ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি সালিশি (Arbitration)-তে পাঠাতে হবে। এছাড়া মামলার লিখিত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সালিশি রায় দিতে হবে।

Advertisements

Also Read | বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির মধ্যে একটি হল, যদি কোনো মামলা ছয় মাসের বেশি সময় ধরে বিচারাধীন থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারীকে সালিশি রায়ে নির্ধারিত অর্থের অন্তত ৫০ শতাংশ প্রদান করতে হবে। সরকারের মতে, এই ব্যবস্থা MSME-গুলির নগদ প্রবাহ (Cash Flow) বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

বিল পাস হওয়ার পরও লোকসভায় বিরোধী সদস্যদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। সভাপতিত্বকারী দিলীপ সাইকিয়া সদস্যদের আসনে ফিরে গিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পোস্টার ও ব্যানার নিয়ে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উপযুক্ত নয়। তিনি আরও জানান, প্রত্যেক সদস্যকেই নিজের বক্তব্য রাখার পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হবে এবং সংসদের মর্যাদা রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব।

এদিকে, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধীদের আচরণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অধিবেশন চলাকালীন নিয়মিত সংসদে উপস্থিত থাকেন এবং গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন।

Also Read | জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,

এর আগে সকাল ১১টায় লোকসভা অধিবেশন শুরু হলে স্পিকার ওম বিড়লা ভারত ছাড়ো আন্দোলনের ৮৪তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি মহাত্মা গান্ধীর ‘করো বা মরো’ আহ্বানের কথা স্মরণ করে বলেন, এই আন্দোলন দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নতুন গতি এনে দিয়েছিল এবং জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র ও সংবিধানের মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করেছিল।

এরপর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু করার চেষ্টা হলেও ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে বিরোধীদের বিক্ষোভে অধিবেশন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। বিরোধীরা এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতি দাবি করেন। হট্টগোল চলতে থাকায় প্রথমে অধিবেশন দুপুর ১২টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয় এবং পরে দিনের বাকি সময়ের জন্য স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

Advertisements