ইটানগর: অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু শুক্রবার চিনা (Pema Khandu)সেনার অনুপ্রবেশের খবর নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্থানীয় মানুষ ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি যাচাই করবেন। সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খান্ডু জানান, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির অনুপ্রবেশ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি সব তথ্য সংগ্রহ করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা মনে করি না কোনো অনুপ্রবেশ হয়েছে। কারণ সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং তারা ভূখণ্ড রক্ষা করে চলেছে। আমি স্থানীয় উপজাতিদেরও বলেছি, তাদের কথা শুনব এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গেও কথা বলব।” তাঁর এই মন্তব্য এসেছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু খবরের পরিপ্রেক্ষিতে। সেখানে দাবি করা হয়েছিল অরুণাচল প্রদেশের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা এলএসি বরাবর চিনা বাহিনী প্রবেশ করেছে।
আরও দেখুনঃ ২০২১ থেকে মোদীর বিদেশ সফরের খরচ ৫৫৭.৫১ কোটি! সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য
বিশেষ করে আপার সুবনসিরি জেলার টাকসিং সার্কেল এলাকা নিয়ে আলোচনা চলছে (Pema Khandu)। স্থানীয় নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পক্ষ থেকে আগেও এ ধরনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তাঁরা বলেছিলেন, চিনা সেনা ধীরে ধীরে তাদের পূর্বপুরুষের জমি, চারণভূমি ও শিকারের এলাকা দখল করে নিচ্ছে। কিছু গ্রামের কাছে চিনা উপস্থিতির কথাও উঠে এসেছিল। তবে ভারতীয় সেনাবাহিনী জুন মাসেই এসব দাবি নাকচ করে বলেছিল, এগুলো ভিত্তিহীন ও ভুল।
পেমা খান্ডু এখন স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করে তাদের উদ্বেগ শুনবেন। (Pema Khandu)একইসঙ্গে সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা জানবেন। তিনি বলেছেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক যাচাই করা জরুরি। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মামা নাটুং গত মাসেও এ ধরনের খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি মিডিয়াকে অনুরোধ করেছিলেন, যাচাই না করে এমন খবর প্রকাশ না করতে।
আরও দেখুনঃ জম্মু-কাশ্মীরের রামবানে রাস্তার মাঝে পরিত্যক্ত গাড়ি! নাশকতার আশংকায় ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী
তাঁর কথায়, অরুণাচলে কোনো চিনা অনুপ্রবেশ নেই (Pema Khandu)। ভারতীয় জওয়ানরা সারাক্ষণ সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন।অরুণাচল প্রদেশ ভারত-চিন সীমান্তের এক সংবেদনশীল অংশ। এখানকার পাহাড়ি এলাকায় স্থানীয় উপজাতিদের জীবন ও জীবিকা সীমান্তের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই যেকোনো গুজব স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান সেই উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি স্থানীয়দের কথা শোনার গুরুত্ব দিয়েছেন, যা প্রশাসনের সংবেদনশীলতার পরিচয় বহন করে।সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার উভয়ই সতর্ক। সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে।
আরও দেখুনঃ আয়ের ভিত্তিতে অনগ্রসর জাতির উপ কোটা তৈরিতে সুপ্রিম কোর্টে নারাজ কেন্দ্র
