নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মণিপুর রাজ্যের বেশিরভাগ (Manipur AFSPA)অংশকে সশস্ত্র বাহিনী (বিশেষ ক্ষমতা) আইন বা এএফএসপিএ-র অধীনে ‘অশান্ত এলাকা’ ঘোষণা করেছে। ১৩টি নির্দিষ্ট থানার এলাকা বাদ দিয়ে পুরো রাজ্য এই ঘোষণার আওতায় এসেছে। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে এই ঘোষণা ছয় মাসের জন্য কার্যকর থাকবে। আগে প্রত্যাহার না হলে তা ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এএফএসপিএ-র ধারা ৩ অনুযায়ী কেন্দ্র সরকার কোনো এলাকাকে অশান্ত ঘোষণা করতে পারে যদি সেখানে সশস্ত্র বাহিনীর সাহায্য প্রয়োজন হয়। এই আইনের অধীনে নিরাপত্তা বাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়। সন্দেহভাজনদের গ্রেফতার, তল্লাশি এবং প্রয়োজনে গুলি চালানোর অধিকার থাকে।মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে জাতিগত সংঘাত চলছে।
আরও দেখুনঃ অসমে ৪৮ হাজার কোটি বিনিয়োগে আদানির ৩২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রকল্প
২০২৩ সালের মে মাস থেকে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে হিংসা শুরু হয়। (Manipur AFSPA)এতে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ত্রাণ শিবিরে থাকা মানুষদের জীবন এখনও অনিশ্চিত। রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনও চালু রয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজন অনুভূত হয়েছে।১৩টি থানা এলাকা বাদ রাখা হয়েছে।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে ইম্ফল ওয়েস্ট জেলার ইম্ফল, লাম্ফেল, সিটি, সিঙ্গজামেই, পাটসোই, ওয়াংওই; ইম্ফাল ইস্টের পোরোমপাট, হেইনগাং, ইরিলবাং; থৌবাল জেলার থৌবাল; বিষ্ণুপুর জেলার বিষ্ণুপুর ও নাম্বোল এবং কাকচিং জেলার কাকচিং। এই এলাকাগুলো তুলনামূলকভাবে শান্ত বলে বিবেচিত হয়েছে।এএফএসপিএ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বহু বছর ধরে বিতর্কিত।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এর অপব্যবহারের অভিযোগ করে আসছে। অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলেন, উগ্রপন্থী কার্যকলাপ ও সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই আইন প্রয়োজনীয়। মণিপুরে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। তাই কেন্দ্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে।নাগাল্যান্ডেও একই সঙ্গে এএফএসপিএ ছয় মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে। সেখানে নয়টি জেলা এবং আরও পাঁচ জেলার ২১টি থানা এলাকা অশান্ত ঘোষিত হয়েছে।
অরুণাচল প্রদেশের কিছু অংশেও এই আইন বহাল থাকছে। (Manipur AFSPA)মণিপুরের সাধারণ মানুষ শান্তি চায়। ত্রাণ শিবির থেকে ঘরে ফেরা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক করা এবং অর্থনৈতিক পুনর্বাসন এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, রাজনৈতিক সংলাপ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি। কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
