নয়াদিল্লি: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চলতে থাকা শক্তিশালী এল নিনোর ( deaths 2026)কারণে চরম তাপমাত্রায় অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ছে। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ জন অতিরিক্ত মানুষ চরম গরমে প্রাণ হারাতে পারেন।
এটি স্বাভাবিক বছরের তুলনায় হিসাব।প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৩৯ হাজার হতে পারে। জুন থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুরো সময়কাল ধরলে সংখ্যাটা প্রায় ৪ লাখ ৫১ হাজারে পৌঁছাতে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাহেল অঞ্চল, যেখানে ৬৬ হাজার ৮০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর আশঙ্কা। নাইজেরিয়ায় একাই ৩১ হাজার ৪০০, ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০।
আরও দেখুনঃ ট্রেন বুকিং এবার আরও কঠিন! ক্যাপচা প্রশ্নে এবার কষতে হবে জটিল গুন-ভাগ
ভারতের অবস্থানও উদ্বেগজনক। (deaths 2026)গবেষকরা বলছেন, এল নিনোর প্রভাবে অত্যন্ত গরম দিনের সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বাড়তে পারে। বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা গড়ে ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে। সেখানে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, উচ্চ জ্বালানি খরচ এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করবে।
ভারতের ক্ষেত্রে ডিসেম্বর ২০২৬ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যেই প্রায় ৭ হাজার ৪০০ অতিরিক্ত মৃত্যুর সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ মোট আনুমানিক সংখ্যার প্রায় অর্ধেক এই তিন মাসে ঘটতে পারে।( deaths 2026) গরমকালে ভারতে তাপপ্রবাহ ইতিমধ্যেই নিয়মিত ঘটনা। এল নিনো সেই চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে।প্রতিবেদনে জোর দেওয়া হয়েছে জরুরি পদক্ষেপের ওপর। তাপ সতর্কতা জারি, কুলিং সেন্টার স্থাপন, পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের সুরক্ষা দিলে হাজার হাজার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং দরিদ্র মানুষদের জন্য এই ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। প্রাকৃতিক এই ঘটনা এখন ‘সুপার এল নিনো’র রূপ নিয়েছে। এর প্রভাব শুধু তাপমাত্রায় সীমাবদ্ধ নয়। খরা, দাবানল, বন্যা ও জলের সংকটও বাড়তে পারে।
তবে তাপজনিত মৃত্যুই সবচেয়ে বড় হুমকি। ( deaths 2026)ভারতে ইতিমধ্যেই তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় নানা উদ্যোগ চলছে। কিন্তু এই পূর্বাভাস দেখিয়ে দিচ্ছে যে প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
