কলকাতা: কলকাতার প্রাণকেন্দ্র কুমোরটুলি (Kumartuli)আজ নতুন এক স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। গঙ্গার তীরে যেখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মাটির প্রতিমা গড়ে উঠেছে, সেখানে এবার আধুনিকতার ছোঁয়া লাগছে। আদানি গ্রুপের উদ্যোগে প্রায় ১০ কোটি টাকার এই পুনর্নির্মাণ প্রকল্প শুধু একটি ঘাটের রূপান্তর নয়, বরং শহরের ঐতিহ্য ও কারিগরদের জীবনযাত্রাকে নতুন মাত্রা দিতে চলেছে।
পুরনো মন্দির, ঐতিহাসিক স্থাপত্য আর ঐতিহ্যবাহী বাড়িগুলোকে অক্ষুণ্ণ (Kumartuli)রেখেই এই কাজ চলছে, যাতে শহরের স্মৃতি হারিয়ে না যায়।দূর্গা পূজার আগেই এই নতুন রূপ দেখতে পাবেন কলকাতার মানুষ। ২৪ সেপ্টেম্বর ঘাটের উদ্বোধন হওয়ার কথা, আর প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে গৌতম আদানি নিজে উপস্থিত থাকতে পারেন। পূজার আগে এই ধরনের বড় উদ্যোগ শুধু পর্যটনকেই নয়, শিল্পীদের মনোবলকেও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
আরও দেখুনঃ আগামী ৪-৫ বছরে পূর্ব রেলওয়েতে ১২ হাজার কোটির প্রকল্প অনুমোদন কেন্দ্রের
কুমোরটুলিতে তিনশোরও বেশি শিল্পী প্রতি বছর মায়ের মূর্তি গড়েন। (Kumartuli)তাঁদের কর্মপরিবেশ উন্নত করা এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। এখন শুধু পূজার মরসুমেই নয়, সারা বছর ধরে তাঁদের শিল্পকর্ম প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে। ফলে পর্যটকরা এখানে এসে শুধু প্রতিমা দেখবেন না, কারিগরদের হাতের কাজের গল্পও শুনতে পাবেন।
পর্যটন দফতর ইতিমধ্যে কুমোরটুলিকে একটি প্রধান ঐতিহ্য-পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার মাস্টার প্ল্যান তৈরি করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কলকাতার মানচিত্রে কুমোরটুলি আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। গঙ্গার ঢেউয়ের শব্দ, মাটির গন্ধ আর শিল্পীদের হাতুড়ির ঠকঠকানি এই সব মিলেমিশে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আশাবাদী। তাঁরা বলছেন, বহুদিন ধরে ঘাটের অবস্থা খারাপ ছিল।
এখন নতুন প্রমেনেড হলে সন্ধ্যার বেলায় পরিবার নিয়ে হাঁটাহাঁটি করা যাবে, (Kumartuli)নৌকায় চড়ে গঙ্গার সৌন্দর্য উপভোগ করা যাবে। খাবারের পার্ক থাকবে বলে পর্যটকরাও বেশি সময় কাটাবেন।এই পুনর্নির্মাণ শুধু ইট-পাথরের কাজ নয়, এটি এক ধরনের সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ। কুমোরটুলি কলকাতার আত্মা। এখানে জন্ম নেয় মায়ের মুখ, এখানেই তৈরি হয় পূজার আনন্দ।
আদানি গ্রুপের এই উদ্যোগ সেই আত্মাকে আরও মজবুত করবে বলে মনে করছেন অনেকে। শিল্পীরা বলছেন, আগে বৃষ্টি হলে কাজের অসুবিধা হত, এখন সুন্দর পরিবেশ পেলে কাজের মানও বাড়বে। প্রদর্শনী গ্যালারিতে তাঁদের সারা বছরের কাজ দেখানো গেলে আয়ের পথও খুলবে।কলকাতায় ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যোগ করা এখন সময়ের দাবি।
আরও দেখুনঃ যাদবপুরে ধুন্ধুমার! বোতল-পাথর বৃষ্টি, পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ক্যাম্পাসে ঢোকার চেষ্টা ABVP-SFI-এর
কুমোরটুলি প্রকল্প সেই দাবিরই প্রতিফলন। (Kumartuli)ঘাটের পাশ দিয়ে হাঁটলে চোখে পড়বে পুরনো কালের গল্প আর নতুন সময়ের সুবিধা। মন্দিরগুলো যেমন আছে তেমনই থাকবে, ঐতিহাসিক বাড়িগুলোও রক্ষা পাবে। শুধু চারপাশটা সাজানো হবে সুন্দর করে। বোটিং জোন তৈরি হলে গঙ্গা আরও কাছে আসবে মানুষের। সন্ধ্যায় আলোকসজ্জায় ঘাট জ্বলজ্বল করবে, আর দূর থেকে আসা পর্যটকরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবেন।
