নয়াদিল্লি: দেশের জাতীয় নিরাপত্তা আজ কতটা বিপন্ন তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।(Matthew VanDyke) আমেরিকান নাগরিক ম্যাথু অ্যারন ভ্যানডাইক এবং ছয়জন ইউক্রেনীয় নাগরিককে ডিফল্ট জামিন দেওয়ার পর দিল্লির একটি বিশেষ এনআইএ আদালত তাদের নিজ নিজ দেশে এক মাসের জন্য যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক।
কারণ এনআইএ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল যে তারা মিজোরাম দিয়ে অবৈধভাবে মায়ানমারে প্রবেশ করে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। (Matthew VanDyke)এর পরও তারা জামিন পেয়েছে এবং ঠিক কি কারণে তাদের নজর বন্দি না করে দেশে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
আরও দেখুনঃ পৃথিবী অতীত! এবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঠিকানা বদলে মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠাবে Google
গত মার্চ মাসে এই সাতজন বিদেশিকে গ্রেফতার করে এনআইএ। ম্যাথু ভ্যানডাইককে কলকাতা বিমানবন্দরে এবং ইউক্রেনীয় নাগরিকদের দিল্লি ও লখনউ বিমানবন্দরে আটক করা হয়। সংস্থার অভিযোগ ছিল, তারা পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে গুয়াহাটি হয়ে মিজোরামে যান এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারের ভিক্টোরিয়া ক্যাম্পে পৌঁছান।(Matthew VanDyke) সেখানে তারা জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন পরিচালনা, অ্যাসেম্বলি এবং জ্যামিং প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দিয়েছেন বলে অভিযোগ।
এমনকি কিছু ড্রোন ইউরোপ থেকে এনে মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে পাচারেরও অভিযোগ ছিল। প্রাথমিকভাবে ইউএপিএ-সহ কঠোর আইনে মামলা দায়ের হলেও পরে চার্জশিটে শুধুমাত্র অভিবাসন আইনের ধারাগুলোই যুক্ত করা হয়।আইন অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ না হওয়ায় আদালত ডিফল্ট জামিন মঞ্জুর করে। বিশেষ বিচারক প্রশান্ত শর্মা চার্জশিটকে ‘টুকরো টুকরো’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, তদন্তকারী সংস্থা অসম্পূর্ণ চার্জশিট জমা দিয়ে আসামির ডিফল্ট জামিনের অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। এরপর ছয়জন ইউক্রেনীয়কে এক লাখ টাকার নগদ জামানতে এবং ভ্যানডাইককেও (Matthew VanDyke)একই শর্তে জামিন দেওয়া হয়। অভিবাসন সংক্রান্ত অপরাধগুলো এফআরআরও-তে জরিমানা দিয়ে নিষ্পত্তি হওয়ায় সেগুলো থেকেও তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।বৃহস্পতিবার আদালত আরও এক ধাপ এগিয়ে তাদের পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং এক মাসের জন্য দেশে যাওয়ার অনুমতি দেয়।
ভ্যানডাইক (Matthew VanDyke)আমেরিকায় এবং বাকিরা ইউক্রেনে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। শর্ত হল, এক মাস পর তাদের ভারতে ফিরে আসতে হবে এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আদালতকে জানাতে হবে। ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এনআইএকে জানাতে হবে। প্রয়োজনে ভিডিও কল বা সশরীরে তদন্তে হাজির হতে হবে। আদালত বলেছে, বিদেশ ভ্রমণের অধিকার মৌলিক অধিকারেরই সম্প্রসারণ।
এই সিদ্ধান্তে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। তদন্ত চলাকালীন এভাবে দেশ ছাড়ার অনুমতি কি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয়? উত্তর-পূর্ব সীমান্ত সংবেদনশীল এলাকা। সেখানে অবৈধ প্রবেশ ও প্রশিক্ষণের অভিযোগ মোটেও হালকা নয়। তবুও আদালত মানবিক দিকটি বিবেচনা করেছে। প্রায় ছয় মাস কারাবাসের পর পরিবারের কাছে যাওয়ার আবেগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
