CJP র প্রতিবাদে হিন্দুত্ববাদী ইনফ্লুয়েন্সারের বাবাকে মারধর! খুনের চেষ্টায় মামলা আরশোলাদের

নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তরমন্তরে NEET আন্দোলনের সময় এক (Swatantra Bhardwaj)আন্দোলনকারীর বাবাকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হল। ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP-এর দাবি, স্বঘোষিত…

swatantra-bhardwaj-assault-case

নয়াদিল্লি: দিল্লির যন্তরমন্তরে NEET আন্দোলনের সময় এক (Swatantra Bhardwaj)আন্দোলনকারীর বাবাকে মারধরের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও তীব্র হল। ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP-এর দাবি, স্বঘোষিত হিন্দুত্ববাদী ইনফ্লুয়েন্সার স্বতন্ত্র ভারতদ্বাজের বিরুদ্ধে এবার খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Advertisements

পাশাপাশি দিল্লি পুলিশ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছে বলেও দাবি করেছে CJP। দলের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার না হলে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ জল্পনার অবসান, নভেম্বরে আসছে সোনিয়ার আত্মজীবনী ‘বিলঙ্গিং’

এই দাবিকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার দিকে মিছিল করেন (Swatantra Bhardwaj)CJP-এর নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা এবং দলের সমর্থকেরা। (Swatantra Bhardwaj)থানার বাইরে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান বিক্ষোভও করেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, যন্তরমন্তরে শান্তিপূর্ণ অবস্থান চলাকালীন একদল দুষ্কৃতী সেখানে ঢুকে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালায়। সেই ঘটনায় CJP কর্মী নিশু আজাদের বাবা সঞ্জয় আজাদ আহত হন বলে দাবি দলের। তাঁদের বক্তব্য, প্রথমে FIR হলেও গুরুতর ধারায় মামলা করা বা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

Advertisements

সৌরভ দাসের অভিযোগ, আন্দোলনের সঙ্গে প্রথম দিন থেকেই যুক্ত এক নাবালিকা এবং তাঁর বাবা সঞ্জয়কে হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল। তাঁদের দাবি, ঘটনাটিকে শুধুমাত্র মারামারি হিসেবে না দেখে খুনের চেষ্টার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা প্রয়োজন। CJP আরও দাবি করেছে, আক্রান্ত পরিবার দলিত হওয়ায় ঘটনার মধ্যে জাতিগত বৈষম্যের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত এবং SC/ST আইনের প্রাসঙ্গিক ধারা প্রয়োগ করতে হবে।

CJP নেতা আশুতোষ রাঙ্কাও দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্ত নিজেই হামলার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করার পরেও পুলিশ যথেষ্ট সক্রিয় হয়নি। CJP-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তারা পুলিশের উপর চাপ তৈরি করবে।

অন্যদিকে, যন্তরমন্তর থানার বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করে দিল্লি পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় যাতে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। পুলিশের এই বিপুল মোতায়েন নিয়েও কটাক্ষ করেছে CJP। দলের অভিযোগ, হামলার সময় পর্যাপ্ত পুলিশি সহায়তা পাওয়া যায়নি, অথচ প্রতিবাদের সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এই বিক্ষোভে CJP নেতাদের পাশে দাঁড়াতে হাজির হন আজাদ সমাজ পার্টি-কাঁশীরামের সভাপতি চন্দ্রশেখর আজাদ। স্বাধীন সাংসদ পাপ্পু যাদবও থানার সামনে CJP-এর আন্দোলনে যোগ দেন। কংগ্রেস নেত্রী অলকা লাম্বা অভিযুক্তকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। (Swatantra Bhardwaj)একইসঙ্গে তিনি ‘নীলা কবুতর’ শব্দবন্ধ ব্যবহারের অভিযোগ তুলে সেটিকে দলিত সম্প্রদায়ের প্রতি আপত্তিকর বলেও দাবি করেন।

ঘটনার সূত্রপাত একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে। CJP-এর দাবি, তাদের X হ্যান্ডেলে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে স্বতন্ত্র ভরতদ্বাজকে সঞ্জয় নামে এক ব্যক্তিকে যন্তরমন্তরে মারধরের কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান এবং দিল্লির মন্ত্রী কপিল মিশ্রের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার দাবিও করেছিলেন বলে CJP-এর অভিযোগ। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরেই বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে।

তবে দিল্লি পুলিশের বক্তব্যে ঘটনার অন্য একটি দিক উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, হাতাহাতির সময় সঞ্জয় কুমারের মাথায় একটি কড়া বা kada-এর আঘাত লাগে এবং তাঁকে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকেরা তাঁর আঘাতকে সাধারণ বা ‘simple injury’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে পুলিশের দাবি। কোনও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও পুলিশ মানেনি। একইসঙ্গে সঞ্জয়ের মাথার খুলি ফেটে যাওয়ার যে দাবি উঠেছিল, চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্টে তার সমর্থন মেলেনি বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

Advertisements