নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উৎখাতের পর (Sheikh Hasina)ভারতে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসছেন। আগামী ৫ আগস্ট তিনি নয়াদিল্লি থেকে একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন। এটি তাঁর উৎখাতের পর ভারতে প্রথম কোনো প্রকাশ্য কর্মসূচি। দীর্ঘদিন ধরে ভারতে থাকলেও তিনি এতদিন প্রকাশ্যে খুব একটা সামনে আসেননি।
এই অনুষ্ঠান তাই বাংলাদেশের রাজনীতি এবং আঞ্চলিক সম্পর্কের দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই ।শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)গত বছরের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তারপর থেকে তিনি নয়াদিল্লিতেই রয়েছেন। ভারত সরকার তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।
আরও দেখুনঃ NEET নিয়ে আন্দোলন-ঝাড়খণ্ডের JPSC দুর্নীতিতে মুখে কুলুপ কেন? প্রশ্ন হেমন্ত-রাহুলকে
এখন ৫ আগস্ট তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখবেন। যদিও তিনি এর আগে একটি বিবৃতিতে বলেছিলেন আগামী ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন এবং তার পাল্টা বাংলাদেশ সরকারও বলেছে তাকে আত্মসমর্পনের সুযোগ দেওয়া হবে না। তার গেই গ্রেফতার করা হবে। এই আবহে হাসিনার এই প্রকাশ্য উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
অনুষ্ঠানটি কোন বিষয়ে হবে তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান এবং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতে পারে।শেখ হাসিনার এই আবির্ভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করবে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এখনও তাঁকে দলের প্রতীক হিসেবে দেখেন।
আরও দেখুনঃ পাঁচ বছরের জন্য বাড়ল পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি যোজনা! তবুও মোদী সরকারে খুশি নয় কৃষকরা
অনেকে মনে করেন, এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দেবেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এবং বিরোধী গোষ্ঠীগুলো এই ঘটনাকে কীভাবে নেবে, সেটাও দেখার বিষয়।ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেও এই অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina)শাসনামলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তাঁর উৎখাতের পর সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা গেছে।
তিনি ভারতে থেকে এখন প্রকাশ্যে আসায় দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারত সরকার এখনও তাঁকে নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছে এবং তাঁর এই অনুষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে।শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বড় নাম।
আরও দেখুনঃ জোর কদমে চলছে আরশোলা আন্দোলনের তদন্ত! দিল্লি দাঙ্গার ছায়া দেখছে গোয়েন্দারা
তাঁর শাসনামলে দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে সমালোচনাও কম হয়নি। উৎখাতের পর তিনি ভারতে এসে চুপচাপ ছিলেন। এখন প্রকাশ্যে আসার সিদ্ধান্ত তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি করেছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা আশা করছেন, তিনি দলকে আবার সংগঠিত করার বার্তা দেবেন।
