লখনউ: উত্তর প্রদেশে মুজফ্ফরনগরের অতিরিক্ত জেলা ও সেশন (Ravi Kumar)বিচারক রবি কুমার দিবাকর আজকের বিচার ব্যবস্থায় এক অনন্য চরিত্র হয়ে উঠেছেন। মাত্র চার-পাঁচ মাসের মধ্যে তিনি বাইশজন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে যৌতুক হত্যা মামলায় আরও একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে সেই সংখ্যা তেইশে পৌঁছেছে।
এই রায় ঘোষণার সময় তিনি যে কথাগুলো বলেছেন,(Ravi Kumar) তা শুধু আদালতের দেয়ালেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তিনি লিখেছেন, “আমি বরং মরতে রাজি, কিন্তু কাপুরুষ বিচারক বলে পরিচিত হতে চাই না। আমার বাবা-মা আমাকে শিখিয়েছেন শুধু ঈশ্বরকে ভয় করতে।
আরও দেখুনঃ যোগী নেতৃত্বে বড় সাফল্য! ১ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দিকে উত্তরপ্রদেশ
যদি আমি অন্য কোনো শক্তির ভয়ে কাজ করি, তাহলে আমার পদত্যাগ করাই উচিত।”দিবাকরের এই মন্তব্য এসেছে এক নাটকীয় পটভূমিতে। গত কয়েক মাসে তিনি যেসব মামলায় মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, তার মধ্যে রয়েছে আইনজীবীর খুন, হোম গার্ড হত্যা, রাহাজানি ও খুনসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর অপরাধ।
তার আগে বরেলিতে পোস্টিংকালেও তিনি (Ravi Kumar)তেরোজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। মোট ত্রিশেরও বেশি মৃত্যুদণ্ডের রায় তার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। তবে সব রায়ই এখনো উচ্চ আদালতের নিশ্চিতকরণের অপেক্ষায়।সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশ হল মামলা সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা। বাইশটি মৃত্যুদণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার কিছুদিনের মধ্যেই তার আদালত থেকে প্রায় সাতানব্বইটি গুরুতর ফৌজদারি মামলার নথি সরিয়ে নেওয়া হয়।
জেলা বিচারকের প্রশাসনিক আদেশে এসব মামলা অন্য আদালতে পাঠানো হয়। (Ravi Kumar)দিবাকরের এই পদক্ষেপকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মাফিয়া, গ্যাংস্টার ও অপরাধীদের রক্ষা করার জন্য। তিনি বলেছেন, পশ্চিম উত্তর প্রদেশের কিছু প্রভাবশালী অপরাধীর জাতপাত ও রাজনৈতিক সংযোগ রয়েছে এবং তাদের প্রভাব বেশ উঁচু পর্যন্ত পৌঁছেছে।
রায়ের মধ্যে তিনি আরও জানিয়েছেন, মামলা সরিয়ে নেওয়ার পর এক গ্যাংস্টার মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তাকে হুমকি দিয়েছেন। হুমকির ভাষা ছিল এখন শুধু নথি সরানো হয়েছে, যদি আরও কিছু করেন বা মন্তব্য করেন তাহলে আদালত বদল বা বদলি করিয়ে দেওয়া হবে। দিবাকর বলেছেন, তিনি এই হুমকিকে তোয়াক্কা করেন না। বিচারকের চেয়ারে বসে তিনিই সিদ্ধান্ত নেবেন। যদি নীতি অনুসরণ করতে না পারেন, তাহলে পদত্যাগ করবেন।
