নয়াদিল্লি: সোশ্যাল মিডিয়ায় সুন্দরী মহিলাদের ভুয়ো প্রোফাইল। সেখান থেকেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট বা মেসেজ। ধীরে ধীরে আলাপ, বন্ধুত্ব এবং শেষে মানসিক সম্পর্ক। আর সেই সম্পর্কের আড়ালেই নিঃশব্দে হাতানো হচ্ছে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত স্পর্শকাতর তথ্য! পাকিস্তান-যোগ থাকা এমনই এক ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের পর্দাফাঁস করলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, দেশের স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন থাকা তরুণ ‘অগ্নিবীর’দেরই (Agniveer) এবার মূল নিশানা বানাচ্ছে এই চক্র।
কীভাবে পাতা হচ্ছে ফাঁদ?
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই চক্রের মূল লক্ষ্যই হলো অল্পবয়সি সেনা জওয়ানরা, যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ সক্রিয়। প্রথমে মহিলাদের ভুয়ো পরিচয়ে (Fake Profile) এই জওয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নিয়মিত কথোপকথনের মাধ্যমে তৈরি করা হয় বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভরতা। একবার সেই বিশ্বাস অর্জন করতে পারলেই, অত্যন্ত সন্তর্পণে কাজের জায়গা, পোস্টিংয়ের এলাকা, সেনার গতিবিধি এবং ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য চাইতে শুরু করে ওই হ্যান্ডেলাররা। সাধারণ আড্ডার মোড়কে এভাবেই অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক তথ্য হাতানোর চেষ্টা চলছে।
টাকার টোপ ও আর্থিক লেনদেন
শুধু সম্পর্কের মায়াজাল নয়, এই চক্রে আর্থিক প্রলোভনও কাজ করছে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। গোয়েন্দা সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, বেশ কিছু ক্ষেত্রে সন্দেহভাজন ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে জওয়ানদের কাছে টাকাও পাঠানো হয়েছে। টাকার অঙ্ক বা লেনদেনের উদ্দেশ্য ক্ষেত্রবিশেষে আলাদা হলেও, সামরিক তথ্য পাচারের জন্যই যে এই টাকা দেওয়া হয়েছে, তা কার্যত নিশ্চিত গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দাদের কড়া নজরদারি
এই মুহূর্তে উত্তরাঞ্চল-সহ দেশের বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর এলাকায় মোতায়েন থাকা অগ্নিবীরদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ওপর কড়া নজর রাখছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। কারা স্বেচ্ছায় দেশের তথ্য পাচার করছেন, আর কারাই বা না বুঝে এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন, তা আলাদা করে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সন্দেহভাজন জওয়ান ও অ্যাকাউন্টগুলির একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ডিজিটাল প্রমাণ, যোগাযোগের ধরন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সেনা ও গোয়েন্দা সূত্রে জানানো হয়েছে।
নেপালের চেকপোস্টে আটকে ফিরল ২ গাড়ি ভারতের ত্রাণ
২ সেপ্টেম্বর থেকে বদলাচ্ছে দুই বন্দে ভারত ট্রেনের সময়
