অপারেশন প্রহারে বিশাল সাফল্য! ধামি রাজ্যে গ্রেফতার পাক হ্যান্ডলার

দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডে বড়সড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল স্টেট টাস্ক ফোর্স (STF)। ‘অপারেশন প্রহারের(Operation Prahar)আওতায় দেরাদুন থেকে এক সন্দেহভাজন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার সঙ্গে…

operation-prahar-dehradun-arrest-stf-pakistan-terror-link

দেরাদুন: উত্তরাখণ্ডে বড়সড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল স্টেট টাস্ক ফোর্স (STF)। ‘অপারেশন প্রহারের(Operation Prahar)আওতায় দেরাদুন থেকে এক সন্দেহভাজন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যার সঙ্গে পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি হ্যান্ডলারের যোগাযোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

Advertisements

STF-এর সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ অজয় সিং জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির নির্দেশে রাজ্যজুড়ে ‘অপারেশন প্রহার’ চালানো হচ্ছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের উপর নজরদারি চালানো এবং সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ রুখে দেওয়া। প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং মানব গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে STF দীর্ঘদিন ধরেই নজর রাখছিল কিছু সন্দেহজনক ব্যক্তির উপর।

   

আরও দেখুনঃ চোরাচালান চক্রে বড় সাফল্য, গোপনাঙ্গে সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার ২৪ বিদেশি

এই অভিযানের অংশ হিসেবেই শুক্রবার গভীর রাতে দেরাদুনের প্রেমনগর এলাকা থেকে ২৯ বছর বয়সী বিক্রান্ত কাশ্যপকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ঝাঝরা এলাকার বাসিন্দা। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি অবৈধ .৩২ বোর পিস্তল, সাতটি জীবন্ত কার্তুজ এবং একটি স্প্রে পেইন্টের ক্যান উদ্ধার করা হয়েছে। এই অস্ত্রগুলি কোথা থেকে এল এবং কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। STF-এর দাবি, বিক্রান্ত কাশ্যপ দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান-ভিত্তিক এক জঙ্গি হ্যান্ডলার শহজাদ ভাট্টি এবং তার সহযোগী রানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন। এই যোগাযোগ মূলত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে হত। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে কীভাবে সীমান্তের বাইরে বসে থাকা জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভারতের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে, এই ঘটনা তারই একটি উদাহরণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

Advertisements

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তার যোগাযোগের পরিধি কতটা বিস্তৃত ছিল, তিনি একাই কাজ করছিলেন নাকি কোনও বৃহত্তর চক্রের অংশ ছিলেন এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল। একই সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন এবং সাম্প্রতিক গতিবিধিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় প্রেমনগর থানায় প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। STF-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গেও যৌথভাবে তদন্ত চালানো হবে, যাতে পুরো নেটওয়ার্কটি উদঘাটন করা যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীগুলি এখন সরাসরি অনুপ্রবেশের বদলে ডিজিটাল মাধ্যমকে বেশি ব্যবহার করছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যুবকদের প্রভাবিত করা এবং তাদের ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়ছে। ফলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে আরও সতর্ক থাকতে হচ্ছে এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে হচ্ছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও এই সাফল্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শুরু হওয়া এই অভিযানে যে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করা হচ্ছে, তা এই গ্রেফতারির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে।

Advertisements