ফের রক্তাক্ত ডুরান্ড লাইন! তালিবান হানায় নিহত একাধিক পাক সেনা

ইসলামাবাদ: আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত আবারও রক্তাক্ত। (Taliban attack)আফগান বাহিনী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর টর কামার সীমান্ত পোস্টে তীব্র হামলা চালিয়েছে। কুনার প্রদেশের নারি এলাকায় দুরান্ড লাইনের কাছে অবস্থিত…

durand-line-taliban-attack-pakistan-army-border-clash

ইসলামাবাদ: আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত আবারও রক্তাক্ত। (Taliban attack)আফগান বাহিনী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর টর কামার সীমান্ত পোস্টে তীব্র হামলা চালিয়েছে। কুনার প্রদেশের নারি এলাকায় দুরান্ড লাইনের কাছে অবস্থিত এই পোস্টটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। পাকিস্তানি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, আর বেঁচে যাওয়া সৈন্যরা পোস্ট ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

Advertisements

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলা পাকিস্তানি বাহিনীর আগের আগ্রাসনের জবাবে চালানো হয়েছে। আফগান কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, টর কামার পোস্ট থেকে পাকিস্তানি সেনারা আফগান ভূখণ্ডে গুলি চালাচ্ছিল এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করছিল। এই পরিস্থিতিতে আফগান বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে পোস্টটি ধ্বংস করে দেয়। হামলায় পাকিস্তানি সেনাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আফগান সূত্র জানিয়েছে।

   

পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অবশ্য এই দাবি পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, আফগান তালিবানের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং প্রচারণামূলক। তাঁরা জানিয়েছেন যে, সীমান্তে কিছু ছোটখাটো গুলি বিনিময় হয়েছে, কিন্তু কোনো পোস্ট ধ্বংস হয়নি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতিও হয়নি। পাকিস্তান বলছে, আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে এমন মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে।

ডুরান্ড লাইন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ১৮৯৩ সালে ব্রিটিশ আমলে চিহ্নিত এই সীমান্ত আফগানিস্তান কখনোই পুরোপুরি মেনে নেয়নি। তালিবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে সীমান্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। কুনার, নানগারহার, নুরিস্তানসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত গুলি বিনিময়, আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতিদিনই সীমান্তের কাছাকাছি গ্রামগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

Advertisements

অনেক পরিবার নিরাপদ এলাকায় সরে যাচ্ছে।এই সাম্প্রতিক হামলার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তান আফগানিস্তানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, কোনো ধরনের আগ্রাসন সহ্য করা হবে না এবং প্রয়োজনে কড়া জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে আফগান তালিবান সরকার বলছে, তারা শুধু নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষা করছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘ এবং বিভিন্ন দেশ দুই পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছে।

Advertisements