দুর্ভোগের জন্য দায়ী ভারত, চিন-আমেরিকা! ক্ষতিপূরণ চাইল নেপাল

কাঠমান্ডু: নেপাল এখন ভারত, আমেরিকা ও চিনের (Nepal climate)কাছে জলবায়ু ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চাইছে। কাঠমান্ডু বলছে, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ফল। প্রধান কার্বন…

nepal-climate-compensation

কাঠমান্ডু: নেপাল এখন ভারত, আমেরিকা ও চিনের (Nepal climate)কাছে জলবায়ু ক্ষতির ক্ষতিপূরণ চাইছে। কাঠমান্ডু বলছে, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ফল। প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকেই এর দায় নিতে হবে।গত ২৬ তারিখের সেই দিনটি নেপালের ইতিহাসে কালো অক্ষরে লেখা থাকবে।

Advertisements

রসুয়া জেলায়, চিন সীমান্তের কাছে ভোটেকোশি নদীতে হঠাৎ পাহাড়ি সুনামির মতো বন্যা নেমে এল। হিমবাহ ও পাথরের বিশাল ধসের ফলে হিমশীতল জল , কাদা আর ধ্বংসাবশেষের স্রোত গ্রামের পর গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে গেল। এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, প্রায় চার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ। হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন, ফসলের ক্ষেত ধ্বংস, রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন।

   

আরও দেখুনঃ যুদ্ধ-উত্তাপে মহার্ঘ তেল! সেনসেক্সে ৭৫০ পয়েন্ট ধস, ২৩,৮৫০-এর নীচে নিফটি

পুনর্গঠনের খরচ অনুমান করা হচ্ছে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। (Nepal climate)নেপালের মতো ছোট অর্থনীতির দেশের জন্য এটা অসহনীয় বোঝা।পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, নেপালের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রায় নগণ্য। বিশ্বব্যাপী নিঃসরণের শূন্য দশমিক শূন্য চার শতাংশেরও কম। তবুও তারাই সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে। হিমালয়ের হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে, পাহাড়ি সুনামি বাড়ছে এসবই বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি ফল।

Advertisements

যারা শতাব্দী ধরে শিল্পবিপ্লব চালিয়ে কার্বন ছড়িয়েছে, তাদেরই এখন দায়িত্ব। তিনি চিন, আমেরিকা ও ভারতকে বিশ্বের শীর্ষ তিন নিঃসরণকারী হিসেবে নাম করেছেন। চিন সবচেয়ে বড়, তারপর আমেরিকা, তারপর ভারত। তাদের ঐতিহাসিক দায় আছে নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার।খানাল জোর দিয়ে বলেছেন, এটা দান বা সাহায্য নয়। এটা নৈতিক ও আইনি দায়বদ্ধতা।

আরও দেখুনঃ পরিবহনে বিপ্লব আনতে অস্ট্রেলিয়ার কনসাল জেনারেল বার্নার্ড লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে অর্জুন

নেপাল এখন কূটনৈতিক নীতি বদলাচ্ছে। (Nepal climate)আগে তারা সাহায্য চাইত, এখন ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাইছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষতিপূরণ দাবির চিঠি পাঠিয়েছে। রাষ্ট্র সংঘের লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডেও জরুরি সহায়তার আবেদন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদে বিষয়টি তুলতে পারেন বলে আলোচনা চলছে।

এই দাবির পেছনে নেপালের যুক্তি পরিষ্কার। হিমালয় শুধু নেপালের নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জীবনরেখা। গঙ্গা, ত্রিসুলির মতো নদীগুলো দুই বিলিয়নেরও বেশি মানুষের জল সরবরাহ করে। হিমবাহ গলে গেলে পুরো সভ্যতাই বিপদে পড়বে। নেপাল বলছে, তারা শুধু নিজেদের জন্য নয়, দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যতের জন্যই এই লড়াই করছে।তবে এই দাবির পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও উঠছে। নেপাল চিনের সঙ্গে নানা প্রকল্পে ঘনিষ্ঠ হয়েছে।

সীমান্তবর্তী পরিকাঠামো, জলবিদ্যুৎ ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে চিনের অংশগ্রহণ রয়েছে। (Nepal climate)অনেক সময় ভূমি ও সম্পদ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারত বা আমেরিকার মতো প্রতিবেশী ও বড় অংশীদারদের সঙ্গে কতটা আলোচনা হয়েছিল, সেই প্রশ্ন এখন কিছু মহলে উঠছে।

জলবায়ু ক্ষতির দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলেও নিজের ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে সতর্কতা কতটা দেখানো হয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। কিছু বিশ্লেষক বলছেন, শুধু বড় নিঃসরণকারীদের দোষারোপ করলেই হবে না। নিজেদের পাহাড়ি অঞ্চলে পর্যটন, জলবিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো উন্নয়নে পরিবেশগত নিয়ম কঠোরভাবে মানতে হবে।

Advertisements