মুম্বই: পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে ঘনিয়ে ওঠা যুদ্ধ-পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম, এই জোড়া ফলায় বুধবার সকালে খুলতেই রক্তস্নাত হলো ভারতীয় শেয়ার বাজার। লগ্নিকারীদের বিপুল অনীহার জেরে একধাক্কায় ৭৫০ পয়েন্ট (০.৯৮%) পড়ল বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স। অন্যদিকে ২৩৫ পয়েন্ট (০.৯৮%) পতন হয়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফটিতে।
মার্কেটের হালহকিকত
সপ্তাহের মাঝপথে বুধবার সেনসেক্স নেমে এসেছে ৭৬,১৯৩.৮২ পয়েন্টে এবং নিফটি নেমেছে ২৩,৮২০.৭৫ পয়েন্টে। শুধু প্রথম সারির সূচকই নয়, ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে ব্রডার মার্কেট বা বৃহত্তর বাজারও। নিফটি মিডক্যাপ ১০০-র পতন হয়েছে ১.২২% এবং নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ পড়েছে ১%। বাজারের অস্থিরতার সূচক ‘ইন্ডিয়া ভিক্স’ (India VIX) ২.৮৪% বেড়ে ১১.৮২-তে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রবল আতঙ্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেক্টর অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে আইটি (IT) বা তথ্যপ্রযুক্তি খাত (২.৪৭% পতন)। এছাড়াও রিয়েলটি (১.৯৭%) এবং অটোমোবাইল (১.৮৩%) সেক্টরেও ধস নেমেছে। তবে এই বাজারেও কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে ফার্মা ও হেলথকেয়ার সেক্টর।
উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া, মহার্ঘ অপরিশোধিত তেল
শেয়ার বাজারে এই পতনের মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে আমেরিকা ও ইরানের তীব্র সংঘাত। জানা গিয়েছে, রাতারাতি ইরানের একাধিক ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। এর পালটা জবাব দিয়েছে তেহরানও। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কড়া ভাষায় জানিয়েছে, আমেরিকার এই হামলার জেরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও সীমাবদ্ধ করা হবে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবহণ করা হয়।
এই সংঘাতের খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডের দামও গত দু’টি সেশনে ৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর ফলে ভারতের আমদানি খরচ এবং মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা মারাত্মক আকার নিয়েছে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ ভি কে বিজয়কুমার জানিয়েছেন, “ভারতের ঘরোয়া অর্থনীতি যথেষ্ট মজবুত। জিডিপি বৃদ্ধি, জিএসটি সংগ্রহ এবং অটোমোবাইল সেক্টরের বিক্রি বাজারকে ইতিবাচক দিকে টানছে। কিন্তু আমেরিকার-ইরান সংঘাত এবং তেলের দাম বৃদ্ধি সেই হাওয়াকে উলটো দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে।” তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে, আমেরিকার বন্ড ইল্ড যদি ৫ শতাংশ ছুঁয়ে ফেলে, তবে বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে আরও বড় পতন আসতে পারে।
একই সুর এনরিচ মানি-র সিইও পোনমুডি আর-এর গলাতেও। তিনি বলেন, “ভারতের ঘরোয়া বৃদ্ধি কুশন হিসেবে কাজ করলেও, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অপরিশোধিত তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিকট ভবিষ্যতে শেয়ার বাজারকে চাপের মুখেই রাখবে।”
চিনির খুচরো মূল্য নিয়ন্ত্রণে স্টক ধরণের ক্ষমতা ৪ থেকে ২০০০ কুইন্টাল করল মোদী সরকার
অশোকনগরে তেলের পর এবার ঝাড়গ্রামের ম্যাঙ্গানিজ! বদলে দিচ্ছে দেশের শিল্প মানচিত্র
