নয়াদিল্লি: নয়াদিল্লিতে চলতি ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi )রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের বিষয়টিকে সামনে এনেছেন। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্ব করা যায় না। তিনি নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং স্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ফলাফলের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী মোদী গ্লোবাল সাউথের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যাপী শাসনব্যবস্থা (Narendra Modi)একধরনের পিরামিডের মতো। এর শীর্ষে ক্ষমতা ও সিদ্ধান্তগ্রহণের কেন্দ্র কেন্দ্রীভূত, আর নিচের স্তরে রয়েছে সেইসব দেশ যারা সিদ্ধান্তের প্রভাব ভোগ করে কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত গঠনে তাদের ভূমিকা সীমিত।
গ্লোবাল সাউথ আজ বিশ্বব্যাপী সংকটের সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে, কিন্তু সিদ্ধান্তগ্রহণের ক্ষেত্রে পেছনের সারিতেই থেকে যায়।এই বাস্তবতা বদলাতে হবে বলে জোর দিয়ে বলেন প্রধানমন্ত্রী। (Narendra Modi )তিনি গ্লোবাল সাউথকে শুধু নিয়ম মেনে চলার দেশ থেকে নিয়ম তৈরির দেশে রূপান্তরিত করার আহ্বান জানান। ভারত এ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, পাঠ্যভিত্তিক আলোচনাকে নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং স্পষ্ট ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। শুধু আলোচনা চালিয়ে যাওয়া যথেষ্ট নয়, বাস্তব পরিবর্তন আনতে হবে।প্রধানমন্ত্রী মোদী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সংস্কার জরুরি। ভোটের ক্ষমতা, নেতৃত্বের পদ এবং নীতি নির্ধারণের অগ্রাধিকার আজকের অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।
যেসব দেশ বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গতি যোগাচ্ছে, তাদের অর্থনৈতিক শাসনেও যথাযথ ভূমিকা থাকা উচিত। তিনি ব্রিকসকে সারা বিশ্বের শাসন সংস্কারের জন্য দশটি প্রস্তাব তৈরি করার পরামর্শ দেন, যাতে পরবর্তী সম্মেলনের আগেই একটি ব্রিকস সংস্কার রোডম্যাপ তৈরি করা যায়।সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংসহ ব্রিকসের সম্প্রসারিত সদস্য দেশগুলোর নেতারা উপস্থিত রয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী মোদী ব্রিকসকে (Narendra Modi)কারও বিরুদ্ধে নয়, বরং সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ব্রিকস বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের চেয়ারম্যানশিপে স্থিতিস্থাপকতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্ব এই চারটি স্তম্ভকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
