কাকতালীয় হলেও সত্যি! তারেকের ভারত সফর বয়কটের পরেই বিকল বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা ইউনিট

নয়াদিল্লি: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জটিলতা একসঙ্গে আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান BRICS সম্মেলনে ভারত সফর এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।…

bangladesh-brics-india-godda-power

নয়াদিল্লি: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের জটিলতা একসঙ্গে আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান BRICS সম্মেলনে ভারত সফর এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রথম সফর দ্বিপক্ষীয় হওয়া উচিত এবং সময় উপযোগী হলেই তা হবে।

Advertisements

এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।( BRICS )আদানি পাওয়ারের এই কেন্দ্রটি দুটি ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট নিয়ে মোট ১৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করে এবং পুরো বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কাছাকাছি এক ইউনিটে বয়লার সংক্রান্ত কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে ইউনিটটি বন্ধ করে দিতে হয়। বয়লার ঠান্ডা হতেই প্রায় ৪৮ ঘণ্টা লাগে। এরপর মেরামত শুরু করা যায়।

   

আরও দেখুনঃ নকশাল অধ্যুষিত বালাঘাটে অবহেলায় আদিবাসীরা! বিস্ফোরক আরশোলা নেতা দীপকে

পুরোপুরি স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।ইউনিট বন্ধ হওয়ার আগে গোড্ডা থেকে বাংলাদেশে ১৪০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ যাচ্ছিল। বন্ধের পর সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই গ্যাস, কয়লা ও তেলের সংকটে ভুগছিল। অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি সংকটের কারণে বন্ধ বা কম উৎপাদনে চলছিল।

Advertisements

এ অবস্থায় আদানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় লোডশেডিং আরও বেড়েছে। (BRICS)ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান কয়েক হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানিয়েছেন, কারিগরি সমস্যার কারণেই ইউনিট বন্ধ করা হয়েছে। আদানি পাওয়ার এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

তবে বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন, মেরামত শেষে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে কয়লা পরিবহনে রেলপথে জটের কারণেও গোড্ডার উৎপাদন কিছুদিন কমে গিয়েছিল। সেই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে শুরু করার পরই এই নতুন ত্রুটি দেখা দিয়েছে।দুই দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি। গোড্ডা কেন্দ্রটি ভারত থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অতীতে বকেয়া পরিশোধ নিয়ে কিছু জটিলতা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে ছিল।

বর্তমান কারিগরি সমস্যা আলাদাভাবে দেখা হচ্ছে। (BRICS)তবে সময়ের মিল নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা চলছে। অনেকেই কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের ত্রুটির মধ্যে কোনো যোগসূত্র খুঁজছেন। অফিসিয়াল কোনো পক্ষই এমন কোনো সংযোগ স্বীকার করেনি।বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি সংকট নতুন নয়। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির প্রভাবে আমদানিকৃত জ্বালানির সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটছে।

দেশীয় উৎপাদন চাহিদা মেটাতে পারছে না। এ অবস্থায় আমদানিকৃত বিদ্যুৎ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গোড্ডার ইউনিট দ্রুত সচল হলে পরিস্থিতি কিছুটা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে অন্যান্য বিষয়গুলোও সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে লোডশেডিং চলছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা প্রভাবিত হচ্ছে। শিল্প-কারখানা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, সব সম্ভাব্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। গোড্ডার মেরামত কাজ শেষ হলে সরবরাহ আবার বাড়বে।

Advertisements