বালাঘাট: মধ্যপ্রদেশের বালাঘাট জেলায় সম্প্রতি আদিবাসী শিশুদের (Balaghat tribal)অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। এই আবহেই ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে শনিবার এলাকার কয়েকটি প্রভাবিত গ্রাম সফর করেছেন। তিনি আদোরি, কর্কা ও বোন্দারিসহ কয়েকটি জায়গায় গিয়ে শিশুহারা পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা দাবি করেছেন।
দীপকের এই সফরেই ফের নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। রাজ্য সরকার দীপকের এই সফরকে তার কেন্দ্র বিরোধী রাজনীতির অংশ বলে দাবি করেছেন। সরকারের মতে ২০২৫ সালে নকশাল রাজ খতম হওয়ার পর থেকেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আদিবাসী এবং প্রান্তিক মানুষদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারেও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।
আরও দেখুনঃ দিল্লিতে পা রাখলেন চিনা প্রেসিডেন্ট: মোদী-জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নজর কূটনৈতিক মহলের
অন্য দিকে দীপকে বলেছেন, আদিবাসী শিশুরা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। টিকাদান, পরিষ্কার পানীয় জল ও মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার অভাবে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তিনি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হাইকোর্টও এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চেয়েছে।
তবে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দলের তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যাপক উদ্যোগ চলছে। জুলাই মাস থেকে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।(Balaghat tribal) ত্রিশ হাজারেরও বেশি মানুষ স্ক্রিনিংয়ের আওতায় এসেছেন। এর মধ্যে বহু শিশুকে মালনিউট্রিশন, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চারশোর বেশি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যাদের বেশিরভাগই চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন।
রাজ্য সরকারের মতে বালাঘাট জেলা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নকশালমুক্ত ঘোষিত হয়। (Balaghat tribal)শেষ দুই নকশাল নেতার আত্মসমর্পণের পর এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। এর ফলে দূরবর্তী জঙ্গলঘেরা গ্রামগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা পৌঁছাতে পারছেন। কয়েক দশক পর অনেক জায়গায় ডাক্তারদের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করছেন। সরকার মোবাইল মেডিকেল ইউনিট পাঠিয়েছে, হাসপাতালের বেড সংখ্যা বাড়িয়েছে এবং পুষ্টি পুনর্বাসন কেন্দ্রে শিশুদের ভর্তি করছে।
এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কুসংস্কার ও ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাস-নির্ভর চিকিৎসার প্রচলন ছিল। অনেক পরিবার আধুনিক চিকিৎসা এড়িয়ে চলত। নকশাল প্রভাবের কারণে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোও কঠিন ছিল। এখন নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এবং সরকারি উদ্যোগ বাড়ায় পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত দল জানিয়েছে, মৃত্যুগুলোর পেছনে কোনো একক কারণ নেই। ম্যালেরিয়া, হাম, অপুষ্টি, রক্তাল্পতা ও সংক্রমণসহ একাধিক বিষয় দায়ী।
রাজনৈতিক মহলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিতৰ্ক চলছিল। (Balaghat tribal)এবার সেই বিতর্কে ঘৃতাহুতি দিয়েছে দীপকের এই সফর একদিকে দীপকে সরকারের অবহেলার অভিযোগ তুলছেন, অন্যদিকে প্রশাসন বলছে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ করছে। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব নিজেও প্রভাবিত এলাকা সফর করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো বাড়ানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়েছে।
