নয়াদিল্লি: বছরের পর বছর সরকারি দফতর, গুদাম, অফিস চত্বর কিংবা ( scrap sale)বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জমিতে পড়ে থাকা পুরনো ফাইল, অকেজো আসবাব, ভাঙা যন্ত্রপাতি, বাতিল গাড়ি ও অন্যান্য স্ক্র্যাপকে অনেক সময়ই নিছক জঞ্জাল হিসেবে দেখা হয়।
কিন্তু সেই ‘জঞ্জাল’-ই যে সরকারের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ হয়ে উঠতে পারে, গত ছয় বছরের একটি বড়সড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে তারই নজির মিলেছে। সরকারি পরিসর থেকে পুরনো ও অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ৬,০০০ কোটি টাকা আয় করেছে। একই সঙ্গে খালি করা হয়েছে ১,২৩৩ লাখ বর্গফুট, অর্থাৎ প্রায় ১২.৩৩ কোটি বর্গফুট জায়গা।
আরও দেখুনঃ যোগী রাজ্যে অপারেশন ‘ব্ল্যাক হকে’ উদ্ধার ১৮.৬৮ কেজি হেরোইন
পরিসংখ্যানটি কতটা বড়, তা বোঝার জন্য তুলনা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ১২.৩৩ কোটি বর্গফুট জায়গা প্রায় ২৯টি ভারত মণ্ডপমের সমান। (scrap sale)আবার দিল্লি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এর মতো বড় পরিকাঠামোর সঙ্গে তুলনা করলে এই জায়গার পরিমাণ প্রায় ২১টি টার্মিনালের সমান। অর্থাৎ বছরের পর বছর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরিয়ে এমন বিপুল পরিমাণ জায়গা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, যা দেশের একাধিক বৃহৎ সরকারি পরিকাঠামোর মোট আয়তনের সঙ্গে তুলনীয়।
এই অভিযানের আর্থিক দিকটিও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। পুরনো ও অকেজো সামগ্রী নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিলাম বা বিক্রি করে গত ছয় বছরে প্রায় ৬,০০০ কোটি ( scrap sale)টাকা রাজস্ব এসেছে সরকারের কোষাগারে। যে সামগ্রী একসময় সরকারি দফতরের জায়গা দখল করে পড়েছিল, তারই নিষ্পত্তি করে তা আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে। ফলে এই উদ্যোগে একদিকে যেমন সরকারি জায়গার সদ্ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই অতিরিক্ত রাজস্বও এসেছে।
আরও দেখুনঃ যোগীর বুলডোজার অভিযান অব্যাহত! গুঁড়িয়ে গেল গ্রামসভা জমিতে তৈরী অবৈধ মাদ্রাসা
কী ধরনের জিনিস এই পরিষ্কার অভিযানের আওতায় এসেছে? সরকারি অফিস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর ধরে জমতে থাকা ভাঙা বা পুরনো আসবাবপত্র, অচল যন্ত্রপাতি, বাতিল গাড়ি, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, পুরনো নথি ও ফাইল-সহ বহু ধরনের সামগ্রী এর মধ্যে রয়েছে।
সময়ের সঙ্গে এগুলির অনেকগুলিই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে। কিন্তু সরকারি ব্যবস্থায় কোনও জিনিস একবার স্টোররুম, গুদাম বা অফিস চত্বরে জমা হলে সেটি বছরের পর বছর সেখানেই পড়ে থাকার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে জায়গা যেমন আটকে থাকে, তেমনই সেই সামগ্রী রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রেও অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়।
এই পরিস্থিতি বদলাতেই সরকারি দফতরগুলিকে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা ( scrap sale)অপ্রয়োজনীয় সামগ্রী চিহ্নিত করে নির্ধারিত নিয়ম মেনে সরিয়ে ফেলার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল শুধু পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নয়, বরং সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। পুরনো সামগ্রী সরিয়ে খালি হওয়া জায়গা ভবিষ্যতে নতুন কাজ, অফিস সম্প্রসারণ, সংরক্ষণ বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
