নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক বার্তা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে (foreign travel)নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি দেশবাসীকে স্পষ্ট করে বলেছেন, এখন সময় এসেছে নিজেদের অভ্যাস ও অগ্রাধিকার পুনর্বিবেচনা করার। তার বার্তার মূল সুর হল আত্মনির্ভরতা, দেশীয় অর্থনীতির শক্তিবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উন্নত ভারত গড়ে তোলা।
মোদী জানিয়েছেন, কেবল বিনোদনের জন্য বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি(foreign travel)। অনেকেই ছুটি কাটাতে বা দেখার জন্য বিদেশে যান, কিন্তু এতে মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে চলে যায়। তিনি বলছেন, দেশের ভিতরেই অসংখ্য সুন্দর স্থান রয়েছে যেখানে পরিবার নিয়ে সময় কাটানো যায়। এতে পর্যটন শিল্পও লাভবান হবে এবং অর্থ দেশেই থাকবে।
আরও দেখুনঃ ১ সেপ্টেম্বর থেকে দেশে ৭ বড় পরিবর্তন, মহার্ঘ গ্যাস থেকে গাড়ি
‘মিথ্যের গুঞ্জ’ ৭.৮% বৃদ্ধিকে ঢাকতে পারবে না! ইন্সটাগ্রামে রাহুলকে কড়া কটাক্ষ মোদীর
একইসঙ্গে বিদেশে বিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রবণতা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেক পরিবার এখন বিদেশের লোভনীয় স্থানে বিয়ে করতে চান, কিন্তু এতে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। মোদীর আহ্বান, ‘ওয়েডিংস ইন ইন্ডিয়া’ অর্থাৎ ভারতেই বিয়ে করুন। দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান আয়োজন করলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, কারিগর ও সেবা খাত উপকৃত হবে।
সোনার কেনা নিয়েও তিনি সতর্ক করেছেন। (foreign travel)প্রয়োজন না হলে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার কথা বলেছেন তিনি। ভারতে সোনার চাহিদা অনেক বেশি এবং এর বেশিরভাগই আমদানি করা হয়। এতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়ে। অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা কমিয়ে এলে অর্থনীতি আরও স্থিতিশীল হতে পারে। এর বদলে দেশীয় পণ্য কেনার ওপর জোর দিতে বলেছেন তিনি।
স্বদেশী পণ্য ব্যবহার করলে স্থানীয় শিল্প ও কারিগররা উপকৃত হন, কর্মসংস্থান বাড়ে এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়। আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।মোদী বিশেষভাবে যুবসমাজের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলে তরুণদের হাতে তুলে দিতে হবে।
আজকের কঠোর পরিশ্রমই আগামী প্রজন্মের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরি করবে (foreign travel)। দেশের নীতিগুলো সঠিক এবং উদ্দেশ্য নির্মল এই আত্মবিশ্বাস রাখতে বলেছেন তিনি। ১৪০ কোটি ভারতীয়ের সম্মিলিত শক্তি যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে দেশকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন, সবাই মিলে উদযাপন করুন, সংকল্প নিন এবং এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করুন।
এই বার্তা শুধু উপদেশ নয়, বরং এক ধরনের আহ্বান। অনেক নাগরিক মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই কথাগুলো সময়োপযোগী। কোভিড-পরবর্তী সময়ে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের জন্য দেশীয় চাহিদা বাড়ানো এবং আমদানি কমানো জরুরি। বিদেশ ভ্রমণ ও বিদেশি বিয়ে কমিয়ে দেশের পর্যটন ও হোটেল শিল্পকে চাঙ্গা করা যায়। সোনা কেনা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা যায়। স্বদেশী পণ্য কেনার অভ্যাস গড়ে তুললে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলো নতুন করে প্রাণ পায়।
