ভারতের ISRO র সঙ্গে আরও ৫ বছরের চুক্তি বাড়াল ইউরোপিয়ান সংস্থা ESA

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইএসএ-র (ISRO ESA)মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। দুই সংস্থা তাদের পুরনো সহযোগিতা চুক্তি…

isro-esa-cooperation-2032

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ইএসএ-র (ISRO ESA)মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। দুই সংস্থা তাদের পুরনো সহযোগিতা চুক্তি আরও পাঁচ বছরের জন্য বাড়িয়ে নিয়েছে। নতুন মেয়াদ শেষ হবে ২০৩২ সালের ৮ জানুয়ারি। শুধু চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোই নয়, সহযোগিতার পরিধিও অনেক প্রসারিত করা হয়েছে।

Advertisements

এবার মহাকাশ আবহাওয়া বা স্পেস ওয়েদারের পাশাপাশি মানব মহাকাশ অভিযান এবং রোবটিক এক্সপ্লোরেশনকেও এই প্যাকেজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।ইসরো ও ইএসএ-র মধ্যে সহযোগিতার ইতিহাস বেশ পুরনো। বহু বছর ধরে দুই সংস্থা মহাকাশ বিজ্ঞান, উপগ্রহ উৎক্ষেপণ প্রযুক্তি এবং বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক মিশনে একসঙ্গে কাজ করে আসছে। এই দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আরও মজবুত করতেই নতুন পাঁচ বছরের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ পুলিশ সেজে কিশোরীকে গণধর্ষণ, বন্ধুকে হুমকি! এনকাউন্টারে পাকড়াও মূল অভিযুক্ত আসিফ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্প্রসারণ শুধু প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক মহাকাশ গবেষণায় ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বেরই স্বীকৃতি।নতুন চুক্তিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল মহাকাশ আবহাওয়া গবেষণা(ISRO ESA)। সূর্য থেকে নির্গত সৌরঝড় বা সৌর কণাপ্রবাহ পৃথিবীর উপগ্রহ ব্যবস্থা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এই ধরনের মহাকাশ আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও পর্যবেক্ষণে ইসরো ও ইএসএ এখন যৌথভাবে কাজ করবে।

Advertisements

ভারতের মতো দেশে যেখানে কৃষি, যোগাযোগ এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উপগ্রহের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল, সেখানে স্পেস ওয়েদার গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। (ISRO ESA)ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা এবং ভারতীয় প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।মানব মহাকাশ অভিযান এবং রোবটিক এক্সপ্লোরেশনকেও এবার সহযোগিতার মূল অংশে রাখা হয়েছে। চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের প্রস্তুতি বিশ্বজুড়ে জোরদার হচ্ছে।

ইসরো ইতিমধ্যেই গগনযান মিশনের মাধ্যমে ভারতীয় নভোচারীদের মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ইএসএ-র সঙ্গে সহযোগিতা হলে এই মিশনগুলিতে প্রযুক্তিগত সহায়তা, যৌথ গবেষণা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ বাড়বে। রোবটিক অভিযানের ক্ষেত্রেও দুই সংস্থা একসঙ্গে কাজ করতে পারবে। চাঁদের মাটি বিশ্লেষণ, মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল পর্যবেক্ষণ বা অন্যান্য গ্রহের অনুসন্ধানে রোবটিক যান পাঠানোর ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।

এই সহযোগিতা শুধু বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকেও এর তাৎপর্য অনেক। মহাকাশ প্রযুক্তিতে অংশীদারিত্ব বাড়লে ভারতীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলিও উপকৃত হবে। উপগ্রহ নির্মাণ, রকেট প্রযুক্তি এবং মহাকাশ যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় বাজারে ভারতের প্রবেশাধিকার সহজ হতে পারে।

একইসঙ্গে ইউরোপীয় সংস্থাগুলি ভারতের সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সুবিধা নিতে পারবে।মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, (ISRO ESA)এই চুক্তি ভবিষ্যতে আরও বড় যৌথ মিশনের পথ প্রশস্ত করবে। দুই সংস্থা যদি স্পেস ওয়েদার, মানব অভিযান এবং রোবটিক গবেষণায় সফলভাবে কাজ করে, তাহলে আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্প্রদায়ে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত হবে। তরুণ গবেষক ও প্রকৌশলীদের জন্যও নতুন সুযোগ তৈরি হবে। যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, গবেষণা বিনিময় এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দুই পক্ষই লাভবান হতে পারে।

Advertisements