Indo-Bangladesh Train Service: কূটনৈতিক আলোচনার পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ পুনরুদ্ধারের আশা নতুন করে জেগেছে। আগামী মাসে, অর্থাৎ অক্টোবরে দুর্গাপুজোর ঠিক আগে সীমান্ত-সংলগ্ন তিনটি প্রধান ট্রেন – মৈত্রী এক্সপ্রেস, মিতালী এক্সপ্রেস এবং বন্ধন এক্সপ্রেস, আবার চালু হতে পারে। এই বিষয়ে ঢাকায় দুই দিনব্যাপী একটি ‘আন্তঃ-সরকারি রেল বৈঠক’ (আইজিআরএম) শুরু হচ্ছে, যেখানে উভয় দেশের রেলওয়ে ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রেন চলাচলের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করবেন।
অক্টোবর থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে আন্তঃসীমান্ত ট্রেন পরিষেব
উভয় দেশের রেল কর্মকর্তাদের বার্ষিক বৈঠকে তিনটি প্রধান ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রস্তাবটি অনুমোদন পেলে অক্টোবর থেকে বাংলার দুই অংশের (ভারত ও বাংলাদেশ) মধ্যে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। ভারতীয় রেল ও বাংলাদেশ রেল, উভয়ই যত দ্রুত সম্ভব এই পরিষেবাগুলো পুনরায় চালু করার পক্ষে।
নতুন ট্রেন ও রুটের প্রস্তাব বাংলাদেশের
বিদ্যমান তিনটি ট্রেন পুনরায় চালু করার পাশাপাশি, এই বৈঠকে বাংলাদেশ রেল ভারতের কাছে নতুন কিছু প্রস্তাবও পেশ করতে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশ, রাজশাহী ও কলকাতার মধ্যে একটি নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর অনুরোধ জানাবে। এছাড়া, বাংলাদেশ সরকার, মৈত্রী এক্সপ্রেসের রুট পরিবর্তনের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেছে; বর্তমানে ট্রেনটি যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করলেও সরকার এটিকে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চালানোর প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে।
বিদেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে
রেলওয়ে পর্যায়ে ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালুর বিষয়ে ঐকমত্য সত্ত্বেও নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণেই দুই দিনের আইজিআরএম (IGRM) বৈঠকে বিদেশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিনিধি এবং উভয় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। উভয় দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অনুমোদন পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হবে।
ছাত্র আন্দোলনের কারণে ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে পরিষেবা স্থগিত ছিল
উল্লেখ্য যে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ২০০৮ সালের ১৪ এপ্রিল কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ৯ নভেম্বর কলকাতা-খুলনা বন্ধন এক্সপ্রেস এবং ২০২২ সালের ১ জুন নিউ জলপাইগুড়ি-ঢাকা মিতালী এক্সপ্রেস চালু করা হয়।
তবে, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের সহিংস বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে সৃষ্ট নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ১৯ জুলাই ২০২৪ থেকে এই তিনটি ট্রেনেরই চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল। বর্তমানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসায় ট্রেনগুলোকে পুনরায় চালু করার প্রস্তুতি চলছে।
