দেশের প্রতিরক্ষায় অগ্রগতি! ১.১০ লক্ষ কোটির অস্ত্র প্রস্তাবে সই রাজনাথের

নয়াদিল্লি: প্রতিরক্ষা খাতে বড় অগ্রগতির খবর। (India defence)প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি প্রায় ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার সামরিক ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন…

india-defence-procurement-1-10-lakh-crore

নয়াদিল্লি: প্রতিরক্ষা খাতে বড় অগ্রগতির খবর। (India defence)প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি প্রায় ১.১০ লক্ষ কোটি টাকার সামরিক ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশই ভারতীয় শিল্প থেকে সংগ্রহ করা হবে। এটি আত্মনির্ভর ভারত অভিযানের এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম অনুমোদিত হয়েছে।

Advertisements

এর মধ্যে রয়েছে সিবিআরএন রিকনাইস্যান্স যান, যা রাসায়নিক, জৈবিক, তেজস্ক্রিয় ও পারমাণবিক দূষণ শনাক্ত ও চিহ্নিত করতে সক্ষম। (India defence)উচ্চ গতিশীলতাসম্পন্ন যান বা হাই মোবিলিটি ভেহিকেল পাহাড়ি ও কঠিন ভূখণ্ডে সেনাদের চলাচল সহজ করবে। মাইন লেয়ার, অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার, ট্রল ট্যাঙ্ক এবং সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেমও এই তালিকায় রয়েছে। এগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা অনেকখানি বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃ দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে ড্রাই ডে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

এই অনুমোদন শুধু সেনাবাহিনীর জন্য নয়। নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্যও বেশ কিছু প্রস্তাব পাস হয়েছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো দেশীয় শিল্পের অংশগ্রহণ। প্রায় পুরো ক্রয়ই ভারতীয় কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে হবে। এতে দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাত নতুন করে চাঙ্গা হবে। কর্মসংস্থান বাড়বে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়বে এবং বিদেশি নির্ভরতা কমবে।আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে সরকার দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।

Advertisements

প্রতিরক্ষা খাতে আমদানি কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর নীতি এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। (India defence)ডিএসির এই সিদ্ধান্ত সেই নীতিরই প্রতিফলন। ভারতীয় প্রতিরক্ষা স্টার্টআপ থেকে শুরু করে বড় শিল্পগোষ্ঠী সবাই এখন এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে। দেশে তৈরি অস্ত্র ও সরঞ্জাম যখন সেনাবাহিনীর হাতে পৌঁছাবে, তখন তা জাতীয় নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করবে।সেনাবাহিনীর জন্য অনুমোদিত সরঞ্জামগুলো আধুনিক যুদ্ধের চাহিদা মেটাতে সক্ষম।

সিবিআরএন যান ভবিষ্যতের সম্ভাব্য হুমকির মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মাইন লেয়ার ও ট্রল ট্যাঙ্ক শত্রুপক্ষের মাইনক্ষেত্র পরিষ্কার করতে সাহায্য করবে। সর্বত্র ব্রিজ সিস্টেম নদী বা বাধা পার হতে সেনাদের সহায়তা করবে। অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত চলাচল ও সরবরাহ নিশ্চিত করবে। সব মিলিয়ে এটি সেনাবাহিনীর সামগ্রিক যুদ্ধক্ষমতা বাড়াবে।প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

তাঁরা বলছেন, শুধু ক্রয় নয়, দেশীয় উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়াটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। এতে প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা ও উন্নয়নের সুযোগ বাড়বে। ভারতীয় কোম্পানিগুলো আন্তর্জাতিক মানের সরঞ্জাম তৈরির অভিজ্ঞতা অর্জন করবে। ভবিষ্যতে রফতানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে।

রাজনাথ সিং-এর নেতৃত্বে ডিএসি নিয়মিতভাবে এমন প্রস্তাব অনুমোদন করে আসছে। প্রতিবারই দেশীয় উপাদানের অংশ বাড়ানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এইবার ৯৮ শতাংশ দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য সত্যিই উল্লেখযোগ্য। এটি প্রমাণ করে যে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন পরিপক্ক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Advertisements