ভারতের স্বদেশি স্কাইস্ট্রাইকার লয়টারিং মিউনিশন আবারও তার সক্ষমতা প্রমাণ করেছে(SkyStriker)। রাজস্থানের মহাজন ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ভারত-মার্কিন যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬ অনুশীলনের সময় এই মিউনিশন নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানে। অপারেশন সিঁদুরে এর ভূমিকার পর এই প্রদর্শন ভারতের নির্ভুল ড্রোন ও মানবহীন যুদ্ধ ব্যবস্থার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
ভারতীয় সেনাবাহিনী শনিবার জানিয়েছে, স্কাইস্ট্রাইকার (SkyStriker)বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতিতে লক্ষ্য শনাক্ত করে, তাতে এনগেজ করে এবং সঠিকভাবে আঘাত হানে। সেনাবাহিনীর শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, মিউনিশনটি আকাশে ঘুরে লক্ষ্য খুঁজে বের করে এবং নির্ভুলভাবে আক্রমণ চালায়। এই প্রযুক্তি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মানবহীন ব্যবস্থা ও নির্ভুল আঘাতের গুরুত্ব তুলে ধরে।
আরও দেখুনঃ ১০ শতাংশেরও বেশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে ভারত! আশাবাদী সীতারামন
স্কাইস্ট্রাইকার (SkyStriker)হল এক ধরনের লয়টারিং মিউনিশন বা কামিকাজে ড্রোন। এটি লক্ষ্য এলাকার ওপর কয়েক ঘণ্টা ঘুরতে পারে, শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করে এবং তারপর নিজেই আঘাত হানে। এর রেঞ্জ প্রায় ১০০ কিলোমিটার। অপারেশন সিঁদুরে এটি সফলভাবে ব্যবহার হয়েছিল, যেখানে সীমান্তের ওপারে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোতে আঘাত হানতে সাহায্য করেছিল। এবার যুদ্ধ অভ্যাসে মার্কিন সেনাদের সামনে এর সক্ষমতা দেখানো হয়েছে।
যুদ্ধ অভ্যাস ২০২৬ হল ভারত ও আমেরিকার মধ্যে ২২তম দ্বিপাক্ষিক সামরিক অনুশীলন। এটি উত্তরাখণ্ডের আউলি এবং রাজস্থানের মহাজন রেঞ্জে একযোগে চলছে। অনুশীলনের লক্ষ্য হলো পার্বত্য ও আধা-পার্বত্য এলাকায় ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপের যৌথ সক্ষমতা বাড়ানো। পদাতিক অভিযানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এবার ড্রোন, কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা এবং মাল্টি-ডোমেইন অপারেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মহাজন রেঞ্জে যৌথ ফায়ারিং প্রদর্শনে স্কাইস্ট্রাইকারের পাশাপাশি ভারতের পিনাকা মাল্টি-ব্যারেল রকেট, এম৭৭৭ হাউইটজার, ধনুষ আর্টিলারি, অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ও স্বাতি রাডার ব্যবহার করা হয়। মার্কিন পক্ষ থেকে হিমার্স ও এম-লিডস সিস্টেম মোতায়েন করা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর ও ভারতীয় সেনা কর্মকর্তারা এই প্রদর্শন প্রত্যক্ষ করেন।এই সফলতা ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা উদ্যোগের অংশ।
স্কাইস্ট্রাইকার বেঙ্গালুরুর আলফা ডিজাইন টেকনোলজিস ও ইসরায়েলের এলবিট সিস্টেমসের সহযোগিতায় তৈরি। ভারতীয় সেনাবাহিনী এটিকে নিজেদের অস্ত্রাগারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন ও লয়টারিং মিউনিশনের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংঘাতে এর ব্যবহার দেখা গেছে। ভারতও এই প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করছে।
স্কাইস্ট্রাইকারের (SkyStriker)এই প্রদর্শন শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নয়, ভারত-মার্কিন প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গভীরতাকেও তুলে ধরে। দুই দেশের সেনারা একসঙ্গে প্রশিক্ষণ নিয়ে আন্তঃপরিচালনযোগ্যতা বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যতের যুদ্ধে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ভূমিকা আরও বড় হবে। ভারত এই ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তুলছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
