নয়াদিল্লি: ভারত ২০২৭ সালে উত্তর সাগর পথ বা নর্দার্ন সি রুট দিয়ে (Northern Sea Route)তার প্রথম কার্গো জাহাজ রাশিয়ায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদক্ষেপ ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এর আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, ভারত এই রুটে সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।নর্দার্ন সি রুট রাশিয়ার আর্কটিক উপকূল বরাবর চলা এক বিকল্প শিপিং পথ।
এটি এশিয়া থেকে ইউরোপের দূরত্ব প্রায় ৪০ শতাংশ (Northern Sea Route)কমিয়ে দিতে পারে এবং সময় বাঁচায় প্রায় দুই সপ্তাহ। সুয়েজ খালের ঐতিহ্যবাহী পথে বিভিন্ন বাধা ও বিঘ্ন দেখা দিলে এই রুট আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারতের শিপিং মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এস. ভেঙ্কটেসপতি আর্খাঙ্গেলস্কের আর্কটিক-রিজিয়নস ফোরামে জানান, ২০২৭ সালে প্রথম পাইলট জাহাজ এই পথে চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও দেখুনঃ ভারতের যুবকদের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে ২ অক্টোবর থেকে ব্যাংকগুলোকে প্রচারের নির্দেশ সীতারামনের
রাশিয়ার আর্খাঙ্গেলস্ক অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার সিবুলস্কি ভারতের সঙ্গে আলোচনার কথা উল্লেখ করেছেন। এতে জাহাজ নির্মাণ, পোর্ট সুবিধা ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন এবং বন্দরের আশেপাশে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চেন্নাই-ভ্লাদিভোস্টক করিডোরে ইতিমধ্যে কার্গো পরিবহন ৭০ শতাংশ বেড়েছে। এই সাফল্যকে নর্দার্ন সি রুটে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্প্রতি বলেছেন, রাশিয়া চিন ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে এই রুটে ক্রমবর্ধমান আগ্রহ দেখছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সহযোগিতা আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের কাঠামোর মধ্যেই থাকবে। ভারতের জন্য এই রুট শুধু সময় ও খরচ সাশ্রয়ই নয়, বরং শক্তি আমদানি ও বাণিজ্য বৈচিত্র্যকরণেও সাহায্য করবে। রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব কমাতে এই পথ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।নর্দার্ন সি রুটের উন্নয়নে রাশিয়া ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে।
আইসব্রেকার জাহাজ ও বন্দর অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। (Northern Sea Route)ভারতও পোলার নেভিগেশনে প্রশিক্ষণ এবং জাহাজ নির্মাণে সহযোগিতার কথা ভাবছে। রোসাটমের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এই রুট ব্যবহার করলে ভারতীয় জাহাজ উত্তর ও পূর্ব ইউরোপের বন্দরে দ্রুত পৌঁছাতে পারবে।তবে আর্কটিক অঞ্চলের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
বরফ গলার কারণে রুট খুলে গেলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ভারত সাবধানে এগোচ্ছে এবং ব্যবহারিক সহযোগিতার ওপর জোর দিচ্ছে। পূর্ব মেরিটাইম করিডোরের সাফল্য দেখিয়েছে যে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি সমুদ্র সংযোগ বাণিজ্য বাড়াতে পারে।
