গোলাবর্ষণের মহড়া থেকে কক্ষ-অভিযান, চলছে ভারত-মঙ্গোলিয়া যৌথ প্রশিক্ষণ

উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়ে ভারত ও মঙ্গোলিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া ‘নোম্যাডিক এলিফ্যান্ট ২০২৬’ (Nomadic Elephant 2026) চলছে। এই মহড়া চলাকালীন উভয় দেশের সৈন্যরা যুদ্ধকৌশল, অপারেশনাল…

উত্তরাখণ্ডের পিথোরাগড়ে ভারত ও মঙ্গোলিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে যৌথ সামরিক মহড়া ‘নোম্যাডিক এলিফ্যান্ট ২০২৬’ (Nomadic Elephant 2026) চলছে। এই মহড়া চলাকালীন উভয় দেশের সৈন্যরা যুদ্ধকৌশল, অপারেশনাল ড্রিল এবং বিভিন্ন পরিস্থিতির উপযোগী কার্যক্রমের বিষয়ে যৌথভাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। এর লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ে দুই সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক কার্যক্ষমতা (interoperability) বৃদ্ধি করা।

Advertisements

এই মহড়ার সময় মঙ্গোলীয় সৈন্যদের ছোট আগ্নেয়াস্ত্র পরিচালনা ও তা দিয়ে গুলি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল অস্ত্র শনাক্তকরণ, নিরাপত্তা বিষয়ক অনুশীলন, লোড ও আনলোড করা, লক্ষ্যভেদ এবং গুলি চালানো। এই কার্যক্রমগুলোতে ভারতীয় সৈন্যরা মঙ্গোলীয় সৈন্যদের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

   

এরপর, ভারতীয় সৈন্যরা একটি ‘রুম ইন্টারভেনশন ড্রিল’ বা কক্ষের ভেতরে অভিযান চালানোর কৌশল প্রদর্শন করে। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল – কক্ষে প্রবেশ করা, কক্ষটি নিরাপদ বা বিপদমুক্ত করা, দলবদ্ধভাবে অগ্রসর হওয়া, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখা এবং কোনো আহত ব্যক্তিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার মতো প্রক্রিয়াগুলো। ভারতীয় সৈন্যদের পাশাপাশি মঙ্গোলীয় সৈন্যরাও এই ড্রিলের জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে অংশ নেয়।

‘বোখ’ কুস্তির প্রদর্শনী
সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি, এই যৌথ অনুশীলনের সময় উভয় দেশের ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও তুলে ধরা হয়। মঙ্গোলীয় সৈন্যরা তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘বোখ’ কুস্তি এবং মার্শাল আর্টের প্রদর্শনী করে। এর ফলে উভয় দেশের সৈন্যরা একে অপরের সামরিক ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানার সুযোগ পায়।

Advertisements

২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত পিথোরাগড়ে ‘নোম্যাডিক এলিফ্যান্ট ২০২৬’ (Nomadic Elephant 2026) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই মহড়ায় ভারত ও মঙ্গোলিয়া – উভয় দেশের ৪৫ জন করে সেনা সদস্য অংশ নিচ্ছেন। রাষ্ট্রসংঘের নির্দেশনার আওতায় আধা-শহর ও পার্বত্য এলাকায় বিদ্রোহ-দমন অভিযানের প্রস্তুতি গ্রহণই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য। এই অনুশীলনের মাধ্যমে উভয় সেনাবাহিনী তাদের অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম পরিচালনার পদ্ধতি একে অপরের সাথে ভাগ করে নিচ্ছে। একই সাথে, বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে।

Advertisements