প্রশিক্ষণ হবে যুদ্ধবিমান চালকদের, ১৫০টি নতুন ও অত্যাধুনিক ট্রেনিং বিমান সংগ্রহ করবে বায়ুসেনা

IAF: ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের যুদ্ধবিমান চালকদের প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিমানবাহিনী ১৫০টি নতুন উন্নত প্রশিক্ষণ বিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া…

Hawk Mk-132

IAF: ভারতীয় বিমানবাহিনী তাদের যুদ্ধবিমান চালকদের প্রশিক্ষণের আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিমানবাহিনী ১৫০টি নতুন উন্নত প্রশিক্ষণ বিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং এ বিষয়ে একটি প্রাথমিক দরপত্র বা ‘আরএফআই’ (RFI) জারি করেছে। এই নতুন বিমানগুলো বর্তমানে ব্যবহৃত ‘হক এমকে-১৩২’ (Hawk Mk-132) প্রশিক্ষণ বিমানগুলোর স্থলাভিষিক্ত হবে। এই আধুনিক বিমানগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণ পাইলটদের সুখোই-৩০এমকেআই (Sukhoi-30MKI), রাফাল (Rafale), তেজস (Tejas) এবং ভবিষ্যতে আসতে যাওয়া অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA)-এর মতো আধুনিক সম্মুখসারির যুদ্ধবিমানের জন্য প্রস্তুত করা।

Advertisements

তৃতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ: এই নতুন বিমানগুলো হবে ‘তৃতীয় পর্যায়ের’ (Stage-III) প্রশিক্ষণ বিমান, যা প্রাথমিক প্রশিক্ষণ এবং সম্মুখসারির যুদ্ধবিমানের মধ্যে একটি যোগসূত্র হিসেবে কাজ করবে।

   

উন্নত প্রযুক্তি: এই বিমানগুলোতে এয়ারবর্ন রাডার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম এবং ‘বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ’ (BVR) বা দৃষ্টিসীমার বাইরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

বৈশিষ্ট্য: আরএফআই (RFI)-এর তথ্য অনুযায়ী, এই বিমানগুলিতে ‘ফ্লাই-বাই-ওয়্যার’ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, গ্লাস ককপিট, নেভআইসি (NavIC), জিপিএস (GPS) ও গ্লোনাস (GLONASS)-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং ‘জিরো-জিরো’ ইজেকশন সিট থাকবে। এছাড়া, এগুলিতে স্বয়ংক্রিয় পুনরুদ্ধার বা ‘অটোমেটিক রিকভারি’র সুবিধাও যুক্ত থাকবে।

Advertisements

‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র ওপর গুরুত্ব: এই দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য দেশি ও বিদেশি—উভয় ধরনের নির্মাতাই যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ভারতে তারা কী পরিমাণ উৎপাদন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের পরিকল্পনা করছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী: হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) হলো ভারতের প্রধান দরদাতা। এছাড়া ইতালির লিওনার্দো, কোরিয়া অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ, বোয়িং এবং একটি রুশ কোম্পানিও এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।

সময়সীমা: এই প্রকল্পের জন্য আরএফপি (RFP) বা দরপত্র আহ্বানের নথিপত্র ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৬০ মাসের মধ্যে সরবরাহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তবে, প্রথম বিমানটি সম্ভবত ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়েই বিমান বাহিনীর ঘাঁটিতে পৌঁছাবে।

২০০৮ সালে অন্তর্ভুক্ত
২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীতে (IAF) ‘হক এমকে-১৩২’ (Hawk Mk-132) অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং তখন থেকেই এটি ‘স্টেজ-৩’ (Stage-III) পর্যায়ের প্রধান প্রশিক্ষণ বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অপারেশনাল বা যুদ্ধক্ষমতাসম্পন্ন ফাইটার জেটে স্থানান্তরের আগে এটি পাইলটদের উন্নতমানের উড্ডয়ন ও অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ প্রদান করে। ফলে, প্রায় দুই দশক ধরে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফাইটার পাইলট প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় এই বিমানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

বিভিন্ন সূত্রের মতে, একটি উত্তরসূরি বিমানের প্রয়োজনীয়তা কেবল বর্তমান বিমানটির বয়সের কারণেই উদ্ভূত হয়নি। ‘হক’ (Hawk) বিমানটি যখন পরিষেবায় যুক্ত হয়েছিল, তার তুলনায় বর্তমানে যে যুদ্ধ-পরিবেশে নতুন যুদ্ধবিমানটি কাজ করবে, তাতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলো মূলত নেটওয়ার্ক-যুক্ত সেন্সর, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ব্যবস্থা, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং অত্যন্ত উন্নত ডেটা লিংকের ওপর নির্ভরশীল; ভারতীয় বিমানবাহিনী (IAF) এখন তাদের প্রশিক্ষণ বিমানেও এই সক্ষমতাগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে চায়।

Advertisements