হিন্দু ধর্মে জাতপাত কলঙ্কের মত! বিস্ফোরক RSS নেতা হোসাবালে

নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে (Dattatreya Hosabale)সম্প্রতি হিন্দু ধর্মে জাতপাত নিয়ে বড় অবস্থান নিয়েছেন। জাতপাতভিত্তিক বৈষম্যকে হিন্দু সমাজের কলঙ্ক বলে চিহ্নিত করেছেন তিনি।…

hosabale-caste-discrimination-rss

নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে (Dattatreya Hosabale)সম্প্রতি হিন্দু ধর্মে জাতপাত নিয়ে বড় অবস্থান নিয়েছেন। জাতপাতভিত্তিক বৈষম্যকে হিন্দু সমাজের কলঙ্ক বলে চিহ্নিত করেছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জন্মভিত্তিক বৈষম্যের কোনো স্থান হিন্দু সংস্কৃতিতে নেই। জাতের নামে বৈষম্য চলতে পারে না। এটি হিন্দু সমাজের ওপর এক কালো দাগ।

Advertisements

তাঁর এই বক্তব্যে তিনি জাতপাতের বিভাজন কাটিয়ে উঠে আরও শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন ।হোসাবালের এই মন্তব্য সমাজের বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের সামাজিক কাঠামোতে জাতপাত দীর্ঘদিন ধরে এক জটিল বিষয় হয়ে আছে। অনেক ক্ষেত্রেই এটি মানুষের মর্যাদা, সুযোগ ও সামাজিক অবস্থানকে প্রভাবিত করে।

   

আরও দেখুনঃ বিজেপি শাসিত উত্তরাখণ্ডে বন্ধ ৮২৬ প্রাথমিক! ফের আন্দোলনের পথে আরশোলারা

শিক্ষা, চাকরি, বিবাহ বা দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনও কোনো কোনো জায়গায় জাতপাতের প্রভাব দেখা যায়। (Dattatreya Hosabale)তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, জন্মের ভিত্তিতে কাউকে ছোট বা বড় ভাবা হিন্দু সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। হিন্দু সমাজের মূল চেতনায় সমতার আদর্শ রয়েছে। সেই আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে জাতপাতের দেয়াল ভেঙে ফেলতে হবে। সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

Advertisements

বিভাজন নয়, ঐক্যই হতে হবে মূল লক্ষ্য। হোসাবালের (Dattatreya Hosabale)এই আহ্বান তরুণ প্রজন্মের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাঁরাই আগামী দিনের সমাজ গড়বেন।ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও জাতপাতভিত্তিক বৈষম্যের অভিযোগ ওঠে। কোনো কোনো এলাকায় মন্দির প্রবেশ, কূপের জল ব্যবহার বা সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়েও সমস্যা দেখা যায়। এসব ঘটনা সমাজের অগ্রগতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

হোসাবলে যখন বলেন যে এমন বৈষম্য হিন্দু সমাজের কলঙ্ক, তখন তা সমাজের আত্মসমালোচনার এক সুযোগ তৈরি করে। নিজেদের ভেতরের দুর্বলতাকে স্বীকার করে সেগুলো দূর করার পথ খোঁজা যায়।ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ার আহ্বান শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। এর জন্য শিক্ষা, সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগের প্রয়োজন। পরিবার থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ, কর্মক্ষেত্র ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সব জায়গায় সমতার বার্তা পৌঁছাতে হবে।

শিশুদের মনে জাতপাতের বিষবাষ্প ঢুকতে না দিয়ে তাঁদের সমান মর্যাদার শিক্ষা দিতে হবে। তরুণরা যদি জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে চিন্তা করেন, তাহলে সমাজের চেহারা পাল্টে যেতে পারে।হোসাবালের বক্তব্যে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট। তিনি শুধু সমালোচনা করেননি, সমাধানের দিকও দেখিয়েছেন।

জাতপাতের বিভাজন কাটিয়ে উঠে শক্তিশালী সমাজ গড়ার কথা বলেছেন। এতে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে সংগঠনটি সামাজিক সম্প্রীতির ওপর জোর দিতে চায়। হিন্দু সমাজের অভ্যন্তরীণ ঐক্য যত মজবুত হবে, ততই সামগ্রিকভাবে সমাজ এগিয়ে যাবে। বিভাজন থাকলে শক্তি ক্ষয় হয়। ঐক্য থাকলে অগ্রগতি সম্ভব হয়।

Advertisements