নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণায় এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সামনে এসেছে।(DRDO) ডিআরডিও-র তৈরি ৩০ কিলোওয়াট ট্রাক-মাউন্টেড ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্র এখন ব্যাপক উৎপাদনের পথে এগোচ্ছে। ২০২৫ সালে সফল পরীক্ষার পর এই লেজার ভিত্তিক অস্ত্রটির প্রথম উৎপাদন মডেল এক বছরের মধ্যে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি মূলত ড্রোন ঝাঁক, ফিক্সড-উইং ইউএভি এবং সেন্সর মোকাবিলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
এই অস্ত্রটি হার্ড-কিল ও সফট-কিল দুইভাবেই কাজ করতে পারে। হার্ড-কিলে লেজারের তাপে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়, আর সফট-কিলে ইলেকট্রনিক ব্যবস্থা বিকল করে দেওয়া হয়।(DRDO) এর কার্যকর পাল্লা প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পর্যন্ত। ট্রাকে বসানো এই ব্যবস্থা দ্রুত স্থানান্তরযোগ্য এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সহজে ব্যবহার করা যাবে।ডিআরডিও-র হাইদরাবাদভিত্তিক সেন্টার ফর হাই এনার্জি সিস্টেমস অ্যান্ড সায়েন্সেস বা চেস এই প্রযুক্তি উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ ভারত-মার্কিন যুদ্ধ মহড়ায় এবার আকাশে গর্জন করবে মার্কিন F-৩৫
২০২৫ সালের এপ্রিলে কর্ণূলের ন্যাশনাল ওপেন এয়ার রেঞ্জে পরীক্ষায় এটি সফলভাবে ফিক্সড-উইং ড্রোন ধ্বংস করেছে, একাধিক ড্রোনের ঝাঁক প্রতিহত করেছে এবং নজরদারি সেন্সর ও অ্যান্টেনা নষ্ট করেছে। আগস্টে চূড়ান্ত প্রযুক্তিগত পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর এখন উৎপাদন পর্যায়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।ডিআরডিও আগামী ছয় মাসের মধ্যে শিল্প অংশীদার নির্বাচনের জন্য এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট বা ইওআই জারি করবে।
এর মাধ্যমে প্রথম উৎপাদন মডেল তৈরির কাজ শুরু হবে।(DRDO) এই মডেল তৈরি হলে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে ব্যবহারকারীদের চাহিদা অনুযায়ী পরিসর ও অন্যান্য মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে।এই অস্ত্রটি ভারতের ইন্টিগ্রেটেড ড্রোন ডিটেকশন অ্যান্ড ইন্টারডিকশন সিস্টেম বা আইডিডিঅ্যান্ডআইএস মার্ক-টুএ এবং সুদর্শন চক্র কর্মসূচির অংশ হিসেবে যুক্ত হচ্ছে।
সুদর্শন চক্র হল ভারতের ব্যাপক বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে বিভিন্ন স্তরের অস্ত্র সমন্বিতভাবে কাজ করবে। ড্রোন হুমকি আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সস্তা ও সহজলভ্য ড্রোন ঝাঁক দিয়ে আক্রমণের প্রবণতা বাড়ছে। প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এগুলো মোকাবিলা করলে খরচ অনেক বেশি পড়ে। লেজার অস্ত্রের ক্ষেত্রে প্রতিটি গুলির খরচ খুবই কম, প্রায় জ্বালানির সমান।
এতে অর্থনৈতিকভাবেও সাশ্রয়ী হয়।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রযুক্তি ভারতকে বিশ্বের কয়েকটি নির্বাচিত দেশের কাতারে নিয়ে যাবে, যারা ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্রের সক্ষমতা রাখে। আমেরিকা, চিন, রাশিয়া, ইসরায়েলসহ কয়েকটি দেশ এই ধরনের প্রযুক্তিতে এগিয়ে আছে। ভারত এখন নিজস্ব সক্ষমতায় এগিয়ে যাচ্ছে।ডিআরডিও ইতিমধ্যেই ১০ কিলোওয়াট শ্রেণির লেজার অস্ত্রের উন্নয়ন করেছে এবং সেটির উৎপাদন অংশীদারও নির্বাচিত হয়েছে।
৩০ কিলোওয়াট সংস্করণ আরও শক্তিশালী এবং দূরপাল্লার হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম।(DRDO) এটি শুধু ড্রোন নয়, নিম্ন উচ্চতার অন্যান্য বায়ুবাহিত হুমকির বিরুদ্ধেও কার্যকর হবে।এই অগ্রগতি ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা নীতির অংশ। দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত অস্ত্র তৈরি করে আমদানিনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। শিল্প অংশীদার নির্বাচনের পর বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণে উৎপাদন দ্রুত এগোবে বলে আশা করা হচ্ছে।
