নয়াদিল্লি: দিল্লির বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে (Delhi SIR)। শহরের মোট ১.৪৫ কোটি ভোটারের মধ্যে মাত্র ৯৭.৪৭ লাখ জন তাদের এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। এর ফলে ৪৭ লাখেরও বেশি নাম ফ্ল্যাগ করা হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকায় প্রায় প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এনুমারেশন পর্ব শেষ হওয়ার পর প্রায় ৬৭ শতাংশ ফর্ম ডিজিটাইজ করা হয়েছে। (Delhi SIR)বাকি প্রায় ৩৩ শতাংশ ভোটারকে অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত, ডুপ্লিকেট বা অন্যান্য বিভাগে রাখা হয়েছে। এই নামগুলো খসড়া তালিকায় থাকবে না। খসড়া ভোটার তালিকা ২৪ আগস্ট প্রকাশিত হবে। যাদের নাম থাকবে না, তাদের সিইও অফিস থেকে নোটিশ পাঠানো হবে যাতে তারা অসঙ্গতিগুলো ব্যাখ্যা করতে পারেন।
আরও দেখুনঃ রাজধানীতে বিশেষ নিরাপত্তায় ধ্বংস করা হল মনিপুরে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের অস্ত্র
এই পরিস্থিতি শুধু দিল্লিতেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের অন্যান্য রাজ্যেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। দলীয় বুথ লেভেল এজেন্টদের এসআইআর কাজে দুর্বল পারফরম্যান্সের কথা উঠে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার হার কম হয়েছে। ভোটার তালিকা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, গণতন্ত্রের ভিত্তি। তাই এর নির্ভুলতা নিশ্চিত করা জরুরি।দিল্লিতে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ফর্ম বিতরণ করা হয়েছিল।
অনেক ভোটার ফর্ম জমা দেননি বা তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। (Delhi SIR)স্থানান্তরিত পরিবার, মৃত ব্যক্তি বা ডুপ্লিকেট এন্ট্রির কারণে অনেক নাম বাদ পড়ছে। কিছু এলাকায় জমা দেওয়ার হার আরও কম। দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লিসহ কয়েকটি এলাকায় প্রায় অর্ধেক ভোটারের ফর্ম সংগ্রহ হয়নি।খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকবে। ২৪ আগস্ট থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সময়সীমা।
আরও দেখুনঃ অরুণাচলে ৬০ কিমি ঢুকেছে চিনা সেনা? ভাইরাল খবরের কড়া জবাব রিজিজুর
এরপর চূড়ান্ত তালিকা ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত হবে। যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা ফর্ম-৬ জমা দিয়ে আবার নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পাবেন। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নথি জমা দিতে হতে পারে।নির্বাচন কমিশন বলছে, এই প্রক্রিয়া ভোটার তালিকাকে পরিশুদ্ধ করার জন্য। মৃত, স্থানান্তরিত বা অযোগ্য নাম বাদ দিয়ে তালিকা আরও নির্ভুল করা হচ্ছে।
তবে অনেক প্রকৃত ভোটারও যেন বাদ না পড়েন, সেদিকে নজর রাখতে হবে। (Delhi SIR)সিইও অফিস নোটিশ পাঠিয়ে তাদের ব্যাখ্যা চাইবে এবং প্রয়োজনে নাম ফিরিয়ে আনা হবে।এই সংখ্যা দেখে রাজনৈতিক দলগুলোও উদ্বিগ্ন। বুথ লেভেল এজেন্টদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের কথা বলা হচ্ছে। ভোটারদের সচেতনতা বাড়ানো দরকার যাতে তারা ফর্ম জমা দেন এবং নিজেদের নাম তালিকায় রাখেন। শহরের মতো জনবহুল এলাকায় স্থানান্তরের হার বেশি হওয়ায় এ ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
