চণ্ডীগড়: প্রেমিকার সঙ্গে বিয়ে করতে চেয়েছিল ছেলে। (Chandigarh Police)কিন্তু বয়স ২১ বছর না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিলেন বাবা-মা। পুলিশের দাবি, সেই বিষয় নিয়েই বাবা-মায়ের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে ১৮ বছরের আরমান। শেষ পর্যন্ত চণ্ডীগড়ে নিজের সরকারি আবাসনে হেড কনস্টেবল বাবাকে গুলি করে খুন করার অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধেই। ঘটনায় ইতিমধ্যেই আরমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, বিয়ের জন্য বাবার কাছে ১০ লক্ষ টাকা চেয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।
চণ্ডীগড় পুলিশের হেড কনস্টেবল নিতিন সিং পুলিশ সদর দফতরের অ্যাকাউন্টস শাখায় কর্মরত ছিলেন। শুক্রবার সেক্টর ২২-এর সরকারি আবাসন থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। (Chandigarh Police)মাথায় গুলির আঘাত ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশি পিস্তলও উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বৃহস্পতিবার রাতে পরিবারের মধ্যে বিয়েকে কেন্দ্র করে যে বিবাদ তৈরি হয়েছিল, তারই জেরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, আরমানের বয়স ১৮ বছর। সে একটি মেয়েকে বিয়ে করতে চাইছিল এবং দ্রুত বিয়ের জন্য পরিবারের উপরে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু নিতিন সিং এবং তাঁর স্ত্রী ছেলেকে জানান, ভারতে পুরুষের বিয়ের আইনগত বয়স ২১ বছর। তাই ২১ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপেক্ষা করতে হবে। এই সিদ্ধান্ত নিয়েই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আরমানের সঙ্গে তার বাবা-মায়ের তর্কাতর্কি হয়।
পুলিশ আধিকারিক সুদেশ কুমার সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, আরমান তার প্রেমিকাকে অবিলম্বে বিয়ে করতে চেয়েছিল। এমনকি মেয়েটিকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে আসার জন্যও বাবা-মায়ের উপরে চাপ দিয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তবে সেই দাবি মানতে রাজি হননি নিতিন সিং ও তাঁর স্ত্রী। শুধু বিয়ের বিষয় নয়, নিজের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটানোর জন্য বাবা-মায়ের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগও রয়েছে আরমানের বিরুদ্ধে। সূত্রের দাবি, বিয়ের জন্য সে বাবার কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল।
ঘটনার সময় আরমান তার মাকেও আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযোগ, সে মায়ের গলা চেপে ধরেছিল। কোনওভাবে তার হাত থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিতিন সিংয়ের স্ত্রী বাড়ির ছাদে উঠে যান। এরপর প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। প্রতিবেশীদের একাংশের দাবি, ঘটনার পরে অর্মান পরিস্থিতি অন্য দিকে ঘোরানোর চেষ্টা করেছিল। বাইরে থেকে কেউ বাড়িতে ঢুকে তাঁর বাবাকে গুলি করেছে এমন একটি গল্প তৈরি করার চেষ্টা করেছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিবাদ এবং আরমানের আচরণকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ আধিকারিক সুদেশ কুমারের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পর অর্মানের মধ্যে কোনও অনুশোচনার লক্ষণও দেখা যায়নি। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং ঘটনার সম্পূর্ণ পরিস্থিতি ফরেন্সিক ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আরমানের (Chandigarh Police)বিরুদ্ধে এই প্রথম গুরুতর অভিযোগ উঠল এমন নয়। জানা গিয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে একটি সড়ক দুর্ঘটনার মামলাতেও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মনিমাজরায় একটি বাইকে থাকা দুই ভাইকে একটি গাড়ি ধাক্কা দিলে দুজনেরই মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সেই সময় আরমান তার বন্ধুর Mahindra Thar চালাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর তাকে গ্রেফতার করা হলেও পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিল সে।
