অবসরে মাসে ১ লাখ টাকা আয় চান? কত কোটি টাকার কর্পাস দরকার জানুন

Retirement Planning: একসময় মধ্যবিত্ত ভারতীয় পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা সঞ্চয় করাই ছিল বড় আর্থিক সাফল্যের প্রতীক। ১ কোটি টাকা থাকলে অবসর জীবন নিশ্চিন্তে কাটানো…

retirement-planning-1-lakh-monthly-income-corpus-required-india

Retirement Planning: একসময় মধ্যবিত্ত ভারতীয় পরিবারের কাছে ১ কোটি টাকা সঞ্চয় করাই ছিল বড় আর্থিক সাফল্যের প্রতীক। ১ কোটি টাকা থাকলে অবসর জীবন নিশ্চিন্তে কাটানো যাবে, এমন ধারণাও ছিল অনেকের।

Advertisements

কিন্তু সময় বদলেছে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে দৈনন্দিন খরচ, চিকিৎসা এবং অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে অবসরের পর ২৫ থেকে ৩৫ বছর বা তারও বেশি সময় বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। ফলে আজকের দিনে শুধু ১ কোটি টাকার কর্পাস তৈরি করলেই দীর্ঘ অবসর জীবনের জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।

   

আপনার লক্ষ্য যদি অবসরের পর প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা আয় করা হয়, তাহলে আসল প্রশ্ন শুধু ‘কোটিপতি হওয়া’ নয়। বরং কত বড় কর্পাস তৈরি করলে দীর্ঘ সময় ধরে সেই আয় বজায় রাখা সম্ভব হবে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

Read More: দক্ষিণ ভারতের রেল পরিবহনে ১০,০২১ কোটি অনুমোদন! এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

Advertisements

১ কোটি টাকায় মাসে কত আয় সম্ভব?

অবসর পরিকল্পনায় বহুল ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি হল ৪ শতাংশ উইথড্রয়াল রুল। এই নিয়ম অনুযায়ী, অবসরের পর প্রতি বছর মোট কর্পাসের প্রায় ৪ শতাংশ তুলে নেওয়া হয়। ধরা যাক, অবসরের সময় আপনার কাছে ১ কোটি টাকা রয়েছে। তার ৪ শতাংশ অর্থাৎ বছরে ৪ লাখ টাকা তোলা যাবে। অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ৩৩,০০০ টাকা।

ফলে অবসরের পর মাসে ১ লাখ টাকা আয়ের লক্ষ্য থেকে ১ কোটি টাকার কর্পাস অনেকটাই দূরে। এর উপর রয়েছে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব। যদি বছরে গড় ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ধরা হয়, তাহলে অবসরের পর কয়েক দশকে খাবার, চিকিৎসা, বাসস্থান এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

Read More: যোগী নেতৃত্বে বড় সাফল্য! ১ ট্রিলিয়ন অর্থনীতির দিকে উত্তরপ্রদেশ

মাসে ১ লাখ টাকার জন্য কত কর্পাস দরকার?

তাহলে অবসরের পর মাসে ১ লাখ টাকা তুলতে কত টাকা প্রয়োজন? এটি নির্ভর করবে অবসরের বয়স, বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত রিটার্ন, মূল্যস্ফীতি এবং আপনি প্রতি বছর কত শতাংশ কর্পাস তুলে নেবেন তার উপর। ৩.৩৩ শতাংশ উইথড্রয়াল রেট ধরে একটি সরল হিসাব করলে প্রয়োজনীয় কর্পাস দাঁড়ায় প্রায় ৩.৬০ কোটি টাকা। হিসাবটি সহজ:

  • মাসিক প্রয়োজন = ১ লাখ টাকা
  • বার্ষিক প্রয়োজন = ১ লাখ × ১২ = ১২ লাখ টাকা
  • উইথড্রয়াল রেট = ৩.৩৩ শতাংশ
  • প্রয়োজনীয় কর্পাস = ১২ লাখ ÷ ০.০৩৩
  • অর্থাৎ প্রায় ৩.৬০ কোটি টাকা

এই কর্পাস থেকে বছরে ১২ লাখ টাকা তোলা সম্ভব হবে, অর্থাৎ মাসে ১ লাখ টাকা। তবে এটিকে নিশ্চিত বা সবার জন্য প্রযোজ্য সংখ্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বাজারের রিটার্ন, মূল্যস্ফীতি এবং অবসরের সময়কাল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অর্থ অনেকটাই বদলে যেতে পারে।

Read More: বিশাল অর্থনৈতিক সাফল্য! ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহে সই আদানি এয়ারপোর্টের

অবসরের বয়সের সঙ্গে কর্পাসের হিসাবও বদলায়

৩.৫ শতাংশের মতো তুলনামূলক কম উইথড্রয়াল রেট ধরে দীর্ঘ অবসর জীবনের জন্য আরও বড় কর্পাস প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, বিভিন্ন অনুমানের ভিত্তিতে আনুমানিক প্রয়োজনীয় কর্পাস হতে পারে:

অবসরের বয়স সম্ভাব্য প্রয়োজনীয় কর্পাস
৫৫ বছর ৫.৮ কোটি থেকে ৭.২ কোটি টাকা
৬০ বছর ৪.৩ কোটি থেকে ৫.৪ কোটি টাকা
৬৫ বছর ৩.২ কোটি থেকে ৪ কোটি টাকা

এখানে মূল বিষয় হল যত আগে অবসর নেবেন, আপনার টাকা তত বেশি বছর চলতে হবে। তাই অল্প বয়সে অবসর নিলে সাধারণত বড় কর্পাস প্রয়োজন হয়।

৩.৬ কোটি টাকার কর্পাস কীভাবে তৈরি করবেন?

অবসর পরিকল্পনায় সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রগুলির একটি হল কম্পাউন্ডিং। যত আগে বিনিয়োগ শুরু করবেন, তত বেশি সময় আপনার বিনিয়োগের উপর রিটার্ন জমে আরও রিটার্ন তৈরি করতে পারে। ধরা যাক, আপনি প্রতি মাসে ১০,৫০০ টাকা করে একটি এসআইপিতে বিনিয়োগ করছেন। বিনিয়োগের সময় ৩০ বছর এবং গড় বার্ষিক রিটার্ন ১২ শতাংশ ধরে একটি উদাহরণ হিসাব করলে ফল হতে পারে:

  • মাসিক এসআইপি = ১০,৫০০ টাকা
  • বিনিয়োগের সময় = ৩০ বছর
  • প্রত্যাশিত বার্ষিক রিটার্ন = ১২ শতাংশ
  • মোট বিনিয়োগ = ৩৭.৮০ লাখ টাকা
  • আনুমানিক রিটার্ন = ৩.২৯ কোটি টাকা
  • মোট মূল্য = প্রায় ৩.৬৬ কোটি টাকা

অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ চালিয়ে গেলে তুলনামূলক ছোট মাসিক বিনিয়োগও বড় কর্পাসে পরিণত হতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ১২ শতাংশ রিটার্ন কোনও গ্যারান্টিযুক্ত রিটার্ন নয়। মিউচুয়াল ফান্ড এবং বাজার-নির্ভর বিনিয়োগে রিটার্ন বাজার পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে এবং কম-বেশি হতে পারে।

আয় বাড়লে SIP-ও বাড়ান

শুধু নির্দিষ্ট ১০,৫০০ টাকা মাসে বিনিয়োগ করাই একমাত্র পথ নয়। আপনার আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসআইপির পরিমাণও ধীরে ধীরে বাড়ানো যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি বছর আয় বাড়লে বিনিয়োগের পরিমাণও বাড়ালে একই সময়ের মধ্যে ৩.৬০ কোটি টাকার তুলনায় আরও বড় অবসর কর্পাস তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। এতে বর্তমান জীবনযাত্রায় অতিরিক্ত চাপ না দিয়েও দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়।

শুধু ১ কোটি টাকার লক্ষ্য রাখবেন না

অবসর পরিকল্পনায় এখন শুধু ‘কোটিপতি’ হওয়ার লক্ষ্য যথেষ্ট নয়। আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি কর্পাস তৈরি করা, যা অবসরের পর দৈনন্দিন খরচ, চিকিৎসা, মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘায়িত অবসর জীবন সামলাতে পারে।

মাসে ১ লাখ টাকা আজ যথেষ্ট মনে হলেও ২০ বা ৩০ বছর পরে সেই টাকার ক্রয়ক্ষমতা অনেক কমে যেতে পারে। তাই অবসরের পরিকল্পনায় বর্তমান খরচের পাশাপাশি ভবিষ্যতের মূল্যস্ফীতিও হিসাব করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সময়। যত আগে শুরু করবেন, কম্পাউন্ডিংয়ের জন্য তত বেশি সময় পাবেন। আর আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসআইপি বাড়াতে পারলে অবসরের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য আরও বড় কর্পাস তৈরি করার সুযোগ থাকবে।

তবে ৩.৬০ কোটি টাকা বা অন্য কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ককে নিশ্চিত অবসর-আয়ের গ্যারান্টি হিসেবে ধরা উচিত নয়। ব্যক্তিগত অবসরের বয়স, বর্তমান খরচ, ভবিষ্যৎ মূল্যস্ফীতি, কর, বিনিয়োগের রিটার্ন এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সম্ভাব্য খরচ ধরে আলাদা পরিকল্পনা করা সবচেয়ে নিরাপদ।

Advertisements