নয়াদিল্লি: সাধারণ মানুষের পকেটে ফের টান পরতে চলেছে? রান্নার গ্যাসের দাম (LPG Price) এক ধাক্কায় সিলিন্ডার প্রতি অন্তত ১৮ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যাসের (ন্যাচারাল গ্যাস) দাম বৃদ্ধিরও প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, দেশে জ্বালানির আপৎকালীন বা ‘কৌশলগত মজুত’ (স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ) গড়ে তোলার লক্ষ্যে গ্রাহকদের উপর অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। মোদী মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত ছাড়পত্র মিললেই দেশ জুড়ে এই নতুন দাম কার্যকর হতে পারে।
হঠাৎ কেন এই শুল্ক আরোপের ভাবনা? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সম্প্রতি ইরান-ইজ়রায়েল সংঘাতের জেরে বিশ্ব জুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটেছে। এর পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে আমদানি খরচও। রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভবিষ্যতের এই ধরনের অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি এড়াতে মোদী সরকার প্রায় ৪২ বিলিয়ন ডলারের একটি আপৎকালীন জ্বালানি মজুত গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদিত হলে, ভারতের কৌশলগত জ্বালানি মজুত কর্মসূচিতে এই প্রথম বার অপরিশোধিত তেলের পাশাপাশি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং রান্নার গ্যাসকেও (এলপিজি) অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি কেজি এলপিজি-তে ১.২৯ টাকা অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলেই ১৪.২ কেজির সাধারণ গৃহস্থালির সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১৮ টাকা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে প্রতি স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার (এসসিএম)-এ ১.৪৩ টাকা শুল্ক বসানোর কথা ভাবা হচ্ছে। হিসাব বলছে, এই নতুন নীতি কার্যকর হলে বর্তমান ব্যবহারের নিরিখে এলপিজি এবং প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে সরকারের কোষাগারে বছরে মোট প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায় হবে। এই অর্থ দিয়েই মূলত গ্যাস সংরক্ষণের পরিকাঠামো তৈরি হবে। তবে অপরিশোধিত তেলের মজুতের অর্থায়ন আগের মতোই কেন্দ্রীয় সরকার নিজে বহন করবে।
জানা গিয়েছে, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত অর্থের অর্ধেকের বেশি খরচ হবে সংরক্ষণাগার বা স্টোরেজ পরিকাঠামো তৈরিতে এবং বাকি অর্থ দিয়ে আপৎকালীন জ্বালানি কেনা হবে। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের আপৎকালীন ভাঁড়ারে অন্তত দু’মাসের চাহিদা মেটানোর মতো অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি এবং দেড় মাসের (৬ সপ্তাহ) চাহিদা মেটানোর মতো এলপিজি মজুত রাখা হবে।
তবে সূত্রের দাবি, সাধারণ মানুষের এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। গোটা বিষয়টি এখনও বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে আলোচনার স্তরেই সীমাবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা এখনও এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়নি। তবে আগামী দিনে এই প্রস্তাব কার্যকর হলে, গৃহস্থালির গ্যাসের বিল গড়ে প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
