অগস্টে ভারতে LPG ব্যবহার কমেছে ১৬ শতাংশ, বাড়ল পেট্রল-ডিজেলের চাহিদা

কলকাতা: অগস্ট মাসে ভারতে রান্নার গ্যাস এলপিজির (LPG)  ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে পেট্রল ও ডিজেলের চাহিদা আগের বছরের তুলনায় বেশ বেড়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক…

india-lpg-consumption-falls-16-percent-petrol-diesel-demand-rises-august-2026

কলকাতা: অগস্ট মাসে ভারতে রান্নার গ্যাস এলপিজির (LPG)  ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সময়ে পেট্রল ও ডিজেলের চাহিদা আগের বছরের তুলনায় বেশ বেড়েছে। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের পেট্রোলিয়াম প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যানালিসিস সেলের প্রকাশ করা প্রাথমিক তথ্য থেকে এই চিত্র সামনে এসেছে।

Advertisements

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অগস্টে ভারতে এলপিজি ব্যবহার ১৬.১৫ শতাংশ কমে ২.৪২ মিলিয়ন টনে নেমেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এলপিজি ব্যবহার ছিল ২.৮৯ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এলপিজির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

   

পশ্চিম এশিয়া সংকট শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতে এলপিজির ব্যবহার চাপের মধ্যে রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে এই সংকট শুরু হওয়ার পর আমদানি করা এলপিজির উপর ভারতের উচ্চ নির্ভরতা এবং হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে এলপিজি পরিবহণের কারণে সরবরাহ নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব এলপিজির ব্যবহারের উপরও পড়েছে।

আরও পড়ুন: রেলে বিপ্লব! ৬ টি নতুন ফ্রেইট লাইন নির্মাণে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বে রেল

Advertisements

এলপিজির উপর নির্ভরতা কমাতে সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। শহর গ্যাস বিতরণ সংস্থাগুলিকে বা সিজিডি-কে দেশে পাইপের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস বা পিএনজি সংযোগ বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, যেখানে পিএনজি পরিষেবা পাওয়া সম্ভব, সেখানে এলপিজি গ্রাহকদের পিএনজিতে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

পশ্চিম এশিয়া সংকটের সময়ে সরবরাহে বিঘ্ন এবং এলপিজির সীমিত প্রাপ্যতার মধ্যে এই পদক্ষেপগুলি সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এলপিজি ব্যবহারের উল্লেখযোগ্য পতনে ভূমিকা রেখেছে বলে সরকারি তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে।

অন্যদিকে, অগস্টে পেট্রলের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৬ সালের অগস্টে পেট্রল ব্যবহার ৭.৮৮ শতাংশ বেড়ে ৩.৮২ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে পেট্রল ব্যবহার ছিল ৩.৫৪ মিলিয়ন টন।

আরও পড়ুন: চিনির খুচরো মূল্য নিয়ন্ত্রণে স্টক ধরণের ক্ষমতা ৪ থেকে ২০০০ কুইন্টাল করল মোদী সরকার

ডিজেলের চাহিদাও বেড়েছে। দেশের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পেট্রোলিয়াম পণ্য ডিজেলের ব্যবহার অগস্টে ৬.৪৬ শতাংশ বেড়ে ৭.০০ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। এক বছর আগে একই সময়ে ডিজেলের ব্যবহার ছিল ৬.৫৮ মিলিয়ন টন।

এক সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, অগস্টে পেট্রলের চাহিদা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ছিল কম বৃষ্টিপাত। বৃষ্টির ঘাটতির কারণে রাস্তায় যান চলাচল বেড়েছে। পাশাপাশি, স্বল্প দূরত্বের যাত্রার ক্ষেত্রে বিমান পরিবহণের পরিবর্তে সাধারণ মানুষ সড়কপথে যাতায়াতকে বেশি পছন্দ করেছেন। এর ফলেও পেট্রলের চাহিদা বেড়েছে।

ডিজেলের ক্ষেত্রে এক বছর আগের তুলনামূলক কম ব্যবহারের ভিত্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদন, পণ্য পরিবহণ এবং কৃষি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকায় ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে। অগস্টে শক্তিশালী জিডিপি বৃদ্ধিও ডিজেলের ব্যবহারে সহায়তা করেছে।

এদিকে অগস্টে বিমান জ্বালানি বা এটিএফের ব্যবহারও সামান্য বেড়েছে। এটিএফের চাহিদা ১.৪ শতাংশ বেড়ে ৭২০,০০০ টনে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের অগস্টে এই ব্যবহার ছিল ৭১০,০০০ টন।

২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে অগস্ট পর্যন্ত পাঁচ মাসের হিসাবেও পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার বৃদ্ধির ছবি দেখা গেছে। এই সময়ে পেট্রলের ব্যবহার ৬.৪৮ শতাংশ বেড়ে ১৮.৯৪ মিলিয়ন টনে পৌঁছেছে। ডিজেলের চাহিদা ৪.২৯ শতাংশ বেড়ে ৪০.৫৬ মিলিয়ন টন হয়েছে।

তবে পাঁচ মাসের হিসাবে এটিএফের ব্যবহার সামান্য কমেছে। এপ্রিল-অগস্ট ২০২৬ সময়ে এটিএফের ব্যবহার ০.৫৭ শতাংশ কমে ৩.৬৮ মিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশের অর্থনীতির স্বার্থে অভ্যেস বদলে বিদেশ ভ্রমণ বন্ধের অনুরোধ মোদীর

এলপিজির ক্ষেত্রে পাঁচ মাসের হিসাবেও পতন অব্যাহত রয়েছে। এপ্রিল থেকে অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ভারতে এলপিজির ব্যবহার ১৫.৮৯ শতাংশ কমে ১১.২৯ মিলিয়ন টনে নেমেছে। আগের বছরের একই সময়ে এই ব্যবহার ছিল ১৩.৪২ মিলিয়ন টন।

ফলে অগস্টের জ্বালানি ব্যবহারের পরিসংখ্যানে একদিকে পেট্রল ও ডিজেলের চাহিদা বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে, অন্যদিকে এলপিজির ব্যবহার টানা চাপের মধ্যে রয়েছে। পশ্চিম এশিয়া সংকট, আমদানিনির্ভরতা এবং সরবরাহ পরিস্থিতির পাশাপাশি পিএনজি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ এলপিজির চাহিদার উপর কতটা দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

Advertisements