গুরুগাঁও: ভারতের বাজারে নতুন ইলেকট্রিক স্কুটার আনার পরিকল্পনা করছে কি না, তা নিয়ে হোন্ডাকে ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। সংস্থা ভারতে হোন্ডা ইউসি৩ (Honda UC3) ইলেকট্রিক স্কুটারের ডিজাইন পেটেন্ট দাখিল করেছে। এর কয়েক সপ্তাহ আগেই হোন্ডা ভারতে কিউসি৩ ইলেকট্রিক স্কুটার প্রদর্শন করেছিল।
ইউসি৩ বর্তমানে থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের মতো কয়েকটি আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি হয়। হোন্ডার অন্যান্য ইলেকট্রিক স্কুটারের তুলনায় এর ডিজাইন তুলনামূলকভাবে বেশি প্রিমিয়াম এবং প্রশস্ত। তবে ভারতে ডিজাইন পেটেন্ট দাখিল করলেও ইউসি৩ এখানে লঞ্চ করবে কি না, তা এখনও হোন্ডা নিশ্চিত করেনি।
ম্যাক্সি-স্টাইল ডিজাইন
পেটেন্টের ছবিতে হোন্ডা ইউসি৩-কে একটি ম্যাক্সি-স্টাইল ইলেকট্রিক স্কুটার হিসেবে দেখা যাচ্ছে। স্কুটারটিতে রয়েছে বড় সিঙ্গেল-পিস সিট, যা চালক এবং পিছনের যাত্রীর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা দেওয়ার দিকে নজর দেয়। সামনের অংশে রয়েছে এলইডি হেডলাইট এবং তার সঙ্গে ইন্টিগ্রেটেড এলইডি ডিআরএল। বডি প্যানেলগুলি বাঁকানো ডিজাইনের। এর সঙ্গে রয়েছে ফ্ল্যাট ফ্লোরবোর্ড এবং একটি উইন্ডস্ক্রিন। বেশি গতিতে চলার সময় বাতাসের চাপ কমাতে উইন্ডস্ক্রিনটি সাহায্য করতে পারে। সামগ্রিকভাবে ইউসি৩-এর ডিজাইন সাধারণ শহুরে ইলেকট্রিক স্কুটারের তুলনায় বেশি বড় এবং ট্যুরিং-কেন্দ্রিক বলে মনে হয়।
১২ ইঞ্চির চাকা ও ডিস্ক ব্রেক
হার্ডওয়্যারের দিক থেকেও ইউসি৩-এ ব্যবহারিক সেটআপ রয়েছে। সামনে রয়েছে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পিছনে মনোশক সাসপেনশন। দুই প্রান্তেই ১২ ইঞ্চির চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। ব্রেকিংয়ের ক্ষেত্রে সামনে রয়েছে ডিস্ক ব্রেক এবং পিছনে ড্রাম ব্রেক। এই সেটআপ শহরের রাস্তার পাশাপাশি তুলনামূলক খারাপ রাস্তা এবং দীর্ঘ যাত্রায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
৩.২ কিলোওয়াটআওয়ারের এলএফপি ব্যাটারি
আন্তর্জাতিক বাজারে হোন্ডা ইউসি৩-এ রয়েছে ৩.২ কিলোওয়াটআওয়ারের লিথিয়াম ফেরো ফসফেট বা এলএফপি ফিক্সড ব্যাটারি প্যাক। হোন্ডার দাবি অনুযায়ী, একবার সম্পূর্ণ চার্জে স্কুটারটি সর্বোচ্চ ১২২ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে পারে। স্কুটারটিতে রয়েছে ৬ কিলোওয়াটের পিক পাওয়ার-এর ইলেকট্রিক মোটর। এর সর্বোচ্চ গতি ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। হোন্ডার দাবি, পারফরম্যান্সের দিক থেকে ইউসি৩ একটি ১৬০ সিসি পেট্রোল চালিত স্কুটারের সঙ্গে তুলনীয়।
দ্রুত চার্জিংয়ের সুবিধা
চার্জিংয়ের ক্ষেত্রেও ইউসি৩ যথেষ্ট সক্ষম। ১২০০ ওয়াট ফাস্ট চার্জার ব্যবহার করে ব্যাটারিকে ০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করতে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় লাগে। তবে ভারতে পেটেন্ট করা মডেলে একই ব্যাটারি এবং চার্জিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ফিচারের তালিকাও বেশ বড়
হোন্ডা ইউসি৩-এর অন্যতম আকর্ষণ হল এর ফিচার তালিকা। আন্তর্জাতিক সংস্করণে রয়েছে ৫ ইঞ্চির টিএফটি কনসোল এবং হোন্ডা রোডসিঙ্ক। ব্লুটুথ কানেক্টিভিটির মাধ্যমে স্মার্টফোনের সঙ্গে স্কুটারটি সংযুক্ত করা যায়। এর সঙ্গে রয়েছে টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন এবং কল ও এসএমএস অ্যালার্ট। চালকের পছন্দ অনুযায়ী রয়েছে তিনটি রাইডিং মোড। এছাড়াও পাওয়া যায় রিভার্স মোড, সুইচেবল ট্র্যাকশন কন্ট্রোল এবং ইউএসবি টাইপ-সি চার্জিং পোর্ট। স্কুটারটিতে কিলেস স্টার্ট ফিচারও রয়েছে। অর্থাৎ শুধু ব্যাটারি এবং মোটরের ওপর নয়, আধুনিক কানেক্টেড ফিচারের দিকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে হোন্ডা।
ভারতে কি লঞ্চ হবে?
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, ভারতে ডিজাইন পেটেন্ট দাখিল করার পর হোন্ডা ইউসি৩ কি দেশের বাজারে লঞ্চ করবে? পেটেন্ট দাখিল করা কোনও গাড়ি বা স্কুটারের ভারতে লঞ্চের নিশ্চয়তা দেয় না। সংস্থাগুলি অনেক সময় ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি বা ডিজাইনের অধিকার সুরক্ষিত রাখার জন্যও বিভিন্ন দেশে পেটেন্ট দাখিল করে। তাই ইউসি৩-এর ভারতীয় বাজারে আসার বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে হোন্ডা যখন ভারতে নতুন ইলেকট্রিক স্কুটার প্রদর্শন করছে এবং একই সময়ে ইউসি৩-এর ডিজাইন পেটেন্টও দাখিল করেছে, তখন মডেলটি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
যদি হোন্ডা শেষ পর্যন্ত ইউসি৩-কে ভারতে আনে, তাহলে বড় ম্যাক্সি-স্টাইল ডিজাইন, ১২২ কিলোমিটার পর্যন্ত দাবি করা রেঞ্জ, ৬ কিলোওয়াট পিক মোটর, দ্রুত চার্জিং এবং একাধিক কানেক্টেড ফিচারের কারণে এটি দেশের ইলেকট্রিক স্কুটার বাজারে একটি আলাদা ধরনের বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। তবে ভারতীয় সংস্করণের দাম, ব্যাটারি, রেঞ্জ বা ফিচার সম্পর্কে এখনও কোনও তথ্য নিশ্চিত নয়।
আরও পড়ুন: ৮,০০০ এমএএইচ ব্যাটারি নিয়ে ভারতে Realme P4S 5G, দাম ৩৪,৯৯৯
আরও পড়ুন: মেড ইন ইন্ডিয়ায় ফের ইতিহাস! দেশের সফল মহাকাশ অভিযানে ব্যবহার হচ্ছে দেশীয় সেমিকন্ডাক্টর চিপ
আরও পড়ুন: DRDO র বড় সিদ্ধান্ত! এবার দেশেই তৈরী হতে চলেছে টর্পেডো সাবমেরিন
