নয়াদিল্লি: ইপিএফও-র (EPFO) টাকা তোলার ক্ষেত্রে ১২ মাস এবং ৩৬ মাসের অপেক্ষার নিয়ম নিয়ে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শোভা কারান্দলাজে জানিয়েছেন, আগাম চূড়ান্ত ইপিএফ সেটলমেন্টের ক্ষেত্রে ১২ মাস, আর এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম বা ইপিএস-এর অধীনে প্রত্যাহারযোগ্য সুবিধার ক্ষেত্রে ৩৬ মাসের অপেক্ষার সময় চালু করেছে ইপিএফও।
তবে এর পাশাপাশি আংশিক টাকা তোলার নিয়ম অনেকটাই সহজ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সরকার।
১২ মাসের নিয়ম কোথায় প্রযোজ্য?
সরকারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনও সদস্য যদি নির্ধারিত সময়ের আগেই চূড়ান্ত ইপিএফ সেটলমেন্ট করতে চান, সেক্ষেত্রে ১২ মাসের অপেক্ষার সময় প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, ১২ মাসের নিয়মটি মূলত আগাম চূড়ান্ত ইপিএফ সেটলমেন্টের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে, ইপিএস-এর অধীনে প্রত্যাহারযোগ্য সুবিধার ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় ৩৬ মাস। এই দুই নিয়ম আলাদা হওয়ায় অনেকের মধ্যে ১২ মাস এবং ৩৬ মাস নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। সংসদে কেন্দ্রের বক্তব্যে সেই পার্থক্যই স্পষ্ট করা হয়েছে।
২৫ শতাংশ টাকা রেখে দিতে হবে?
ইপিএফও-র নতুন নিয়ম নিয়ে আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল সদস্যের অ্যাকাউন্টে ২৫ শতাংশ ন্যূনতম ব্যালান্স রাখার বিষয়টি। লোকসভায় সাংসদ কীর্তি আজাদ এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চেয়েছিলেন, কর্মীদের সঞ্চয়ে নতুন নিয়মের কী প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে ২৫ শতাংশ ন্যূনতম ব্যালান্স এবং পেনশন টাকা তোলার ক্ষেত্রে ৩৬ মাসের অপেক্ষার নিয়ম নিয়ে কর্মী, ট্রেড ইউনিয়ন এবং নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে কোনও আপত্তি বা প্রতিনিধিত্ব এসেছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়। কেন্দ্র জানিয়েছে, একইসঙ্গে আংশিক টাকা তোলা এবং অগ্রিম নেওয়ার নিয়ম আরও সহজ করা হয়েছে।
তিনটি বড় প্রয়োজনের ক্ষেত্রে টাকা তোলা যাবে
ইপিএফও-র সদস্যরা তিনটি বড় বিভাগের অধীনে তাঁদের ব্যালান্সের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত টাকা তুলতে পারবেন।
এই তিনটি বিভাগ হল:
• প্রয়োজনীয় খরচ
• বাড়ি সংক্রান্ত প্রয়োজন
• বিশেষ পরিস্থিতি
এর মাধ্যমে বেকারত্বের সময়ের খরচ, চিকিৎসার জরুরি প্রয়োজন, শিক্ষা, বাড়ি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে ইপিএফের টাকা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। অর্থাৎ, চূড়ান্ত সেটলমেন্টের ক্ষেত্রে অপেক্ষার নিয়ম থাকলেও জরুরি প্রয়োজনের সময় আংশিক টাকা পাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ রাখা হয়েছে।
বিশেষ পরিস্থিতিতে বছরে দু’বার ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত
নতুন ব্যবস্থার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বিশেষ পরিস্থিতিতে সদস্যরা বছরে দু’বার পর্যন্ত তাঁদের ব্যালান্সের ৭৫ শতাংশ তুলতে পারবেন। এর জন্য কেন টাকা তুলছেন, সেই কারণ জানানোও বাধ্যতামূলক নয় বলে সরকার জানিয়েছে। ফলে জরুরি আর্থিক পরিস্থিতিতে সদস্যদের হাতে সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ ব্যবহারের সুযোগ থাকছে।
নিয়ম তৈরির আগে আলোচনা হয়েছিল
কেন্দ্র জানিয়েছে, এই পরিবর্তনগুলি সরাসরি একতরফাভাবে নেওয়া হয়নি। সেন্ট্রাল বোর্ড অব ট্রাস্টিজ বা সিবিটি-তে বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছিল। সিবিটিতে স্বীকৃত ট্রেড ইউনিয়ন, নিয়োগকর্তা সংগঠন এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। ইপিএফও-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সমস্ত সংশোধনী সিবিটির ২৩৮তম বৈঠকে পেশ করা হয়েছিল। সেখানে বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা এবং পর্যালোচনা করার পর কেন্দ্রীয় সরকারকে সংশোধনীগুলি বিজ্ঞপ্তি জারির জন্য সুপারিশ করা হয়।
কর্মীদের অভিযোগ কমাতে ডিজিটাল ব্যবস্থায় জোর
ইপিএফও জানিয়েছে, সদস্যদের সুবিধার জন্য অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। পাশাপাশি সদস্যদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে দাবি নিষ্পত্তির উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। এর লক্ষ্য হল অনুমোদিত অগ্রিমের টাকা যাতে সময়মতো সদস্যদের হাতে পৌঁছে দেওয়া যায়।
১২ মাস বনাম ৩৬ মাস, সহজ করে বুঝুন

ইপিএফও-র নতুন নিয়মে চূড়ান্ত ইপিএফ টাকা তোলার ক্ষেত্রে ১২ মাস এবং ইপিএস-এর প্রত্যাহারযোগ্য সুবিধার ক্ষেত্রে ৩৬ মাস অপেক্ষার নিয়ম রয়েছে। তবে একইসঙ্গে আংশিক টাকা তোলার নিয়ম সহজ করে সদস্যদের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর সুযোগ রাখা হয়েছে। তাই ৩৬ মাসের নিয়মকে সরাসরি সমস্ত ইপিএফ টাকা তোলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। কেন্দ্রের সংসদীয় জবাব অনুযায়ী, ১২ মাস এবং ৩৬ মাস দুটি আলাদা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
Also Read | পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব
Also Read | কংগ্রেসের কারণে কলকাতা ছাড়েন তসলিমা! বিস্ফোরক তৎকালীন শরিক সিপিএম নেতা
Also Read | IRCTC-এর ৯ দিনের তীর্থযাত্রা ট্রেন: জ্যোতির্লিঙ্গ থেকে দ্বারকা-অক্ষরধাম, ভাড়া ও রুট জানুন
Also Read | মিরিক লেককে আরও সুন্দর করতে ১০০কোটির পর্যটন প্রকল্প শুভেন্দু সরকারের
