শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভায় শুক্রবার তুমুল হট্টগোল ও ধস্তাধস্তি হয়েছে(J&K Assembly)। পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের সময় বিজেপি বিধায়ক বিক্রম রন্ধাওয়া এবং অন্যান্য বিরোধী সদস্যদের শারীরিকভাবে টেনে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। স্পিকার অবশেষে সোমবার পর্যন্ত অধিবেশন স্থগিত রাখেন।মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ পূর্ণ রাজ্যত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবে ২০০০ সালের ২৬ জুনের স্বয়ংশাসন সংক্রান্ত পুরনো প্রস্তাব এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবের উল্লেখ ছিল। ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল কনফারেন্সের সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে সমর্থন জানালেও বিজেপি বিধায়করা এর তীব্র বিরোধিতা করেন।বিজেপি সদস্যরা বলেন, স্বয়ংশাসন বা অনুচ্ছেদ ৩৭০ নিয়ে কোনো আলোচনা তাঁরা হতে দেবেন না। তাঁরা ‘দেশের টুকরো করব না’ এবং ‘বিদ্যুৎ-জল দিতে না পারা সরকার ব্যর্থ’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
আরও দেখুনঃ সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারী প্রাণ হারাবেন ১৫,৮০০ মানুষ! শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্য
কিছু সদস্য প্রস্তাবের কপি ছিঁড়ে ফেলেন। (J&K Assembly )পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে সদস্যদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। কেউ কেউ চেয়ার ধরার চেষ্টা করেন।এই হট্টগোলের মধ্যে বিজেপি বিধায়ক বিক্রম রন্ধাওয়া স্পিকারের চেয়ারের দিকে এগোতে থাকেন। মার্শালরা তাঁকে ধরে সভাগৃহ থেকে বের করে দেন। অন্যান্য বিরোধী সদস্যরাও প্রতিবাদে সামনের দিকে এগোলে শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। স্পিকার আবদুল রহিম রাদার বারবার সদস্যদের আসনে ফিরে যেতে বলেন।
কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেননি। প্রথমে আধ ঘণ্টার জন্য স্থগিত রাখা হলেও পরে পুরো দিনের জন্য অধিবেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা পরে সাংবাদিকদের বলেন, বিজেপি স্বয়ংশাসন বা অনুচ্ছেদ ৩৭০ নিয়ে কোনো বিতর্ক বা প্রস্তাব অনুমোদন করতে দেবে না। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বলেন, প্রস্তাবটি শুধু পূর্ণ রাজ্যত্ব ফিরিয়ে আনার জন্য। স্বয়ংশাসন বা বিশেষ মর্যাদার জন্য নয়।
বিজেপি সদস্যরা ভোট এড়াতে হট্টগোল করছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে পূর্ণ রাজ্যে পরিণত করার দাবি দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ২০১৯ সালে অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫এ বাতিলের পর রাজ্যের মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলো রাজ্যত্ব ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করছে।
এই প্রস্তাব সেই ধারাবাহিকতায় উত্থাপিত হয়েছে।(J&K Assembly)বিধানসভায় এমন দৃশ্য নতুন নয়। সংবেদনশীল বিষয়ে প্রায়ই উত্তেজনা দেখা যায়। তবে শারীরিক সংঘর্ষ এবং সদস্যদের জোর করে বের করে দেওয়ার ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্পিকারের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া এবং শান্ত পরিবেশে আলোচনা চালিয়ে যাওয়াই এখন প্রয়োজন।
