উত্তাল ঢেউ! মন্দারমণিতে সমুদ্রে স্নানে নেমে তলিয়ে মৃত্যু শিশু ও তরুণীর, নিখোঁজ স্বামী

দিঘা: পর্যটকদের সুরক্ষায় বারবার সতর্কতা জারি করা হলেও এড়ানো গেল না বড় বিপত্তি। সোমবার বিকেলে মন্দারমণির ৩ নম্বর ঘাটে সমুদ্রে স্নানে নেমে মর্মান্তিক মৃত্যু হল…

দিঘা: পর্যটকদের সুরক্ষায় বারবার সতর্কতা জারি করা হলেও এড়ানো গেল না বড় বিপত্তি। সোমবার বিকেলে মন্দারমণির ৩ নম্বর ঘাটে সমুদ্রে স্নানে নেমে মর্মান্তিক মৃত্যু হল দুই পর্যটকের। উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছে নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দা বছর দশেকের এক শিশু সোমনাথ হালদার এবং শান্তিপুরের বাগদেবীপুরের বাসিন্দা আঠারো বছরের গৃহবধূ বৃষ্টি শীল। এই ঘটনায় বৃষ্টির স্বামী সুমন শীলের এখনও পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি, তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ ও নুলিয়ারা।

Advertisements

কী ঘটেছিল মন্দারমণিতে?

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর নাগাদ নদীয়া থেকে আসা দুটি পৃথক পরিবার মন্দারমণিতে বেড়াতে এসে আলাদাভাবে সমুদ্রে স্নান করতে নামে। সোমনাথের বাবা সন্তু হালদার জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর দশ বছরের ছেলে পাড়ের কাছেই স্নান করছিলেন। কিন্তু উত্তাল সমুদ্রের ঢেউয়ের টানে তিনি কিছুটা দূরে সরে যাওয়ার পরই ছেলেটি চোখের আড়াল হয়ে যায়। এরপর খোঁজাখুঁজির পর সমুদ্র থেকে সোমনাথের নিথর দেহ উদ্ধার করে বড় রাঙ্কুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

   

অন্যদিকে, এই ঘটনার কিছু সময় পরেই সমুদ্রে স্নান করতে নেমে ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়ে যান সুমন শীল ও তাঁর স্ত্রী বৃষ্টি শীল। সন্ধ্যা নাগাদ উপকূল থেকে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করা হলেও তাঁর স্বামীর খোঁজ এখনও মেলেনি। নদীয়ার এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতদের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য ও সতর্কতা

দিঘা, মন্দারমণি এবং তাজপুরের সমুদ্রে পর্যটকদের তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও অগস্ট মাসের শেষ সপ্তাহে একই ধরনের দুর্ঘটনায় দুই পর্যটকের মৃত্যু হয়েছিল। বারবার এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটায় প্রশ্ন উঠছে স্থানীয় প্রশাসন ও নুলিয়াদের নজরদারি নিয়ে।

Advertisements

যদিও পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা জানান, মৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তিরা সপরিবারে বেড়াতে এলেও তাঁরা মূলত দিঘা মোহনায় কাজ করেন। পর্যটকদের সতর্ক করতে নিয়মিত মাইকিং করা হয় এবং নজরদারি বাড়াতে নুলিয়াদের সংখ্যাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে পুলিশের তরফ থেকে বারবার সচেতন করা সত্ত্বেও পর্যটকদের একাংশের বেপরোয়া মনোভাব ও নিয়ম না মানার প্রবণতার জন্যই এই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে বলে প্রশাসনের দাবি। শেষ পর্যন্ত সচেতন না হলে এই প্রাণহানির সিলসিলা রোখা অসম্ভব বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ! হরিণঘাটায় ACB-র জালে দুই সিভিক ভলান্টিয়ার

শাহের বঙ্গ সফরে বাদ মুসলিম আধিকারিকরা! অভিযোগ করে রাষ্ট্রসংঘে চিঠি মহুয়ার

Advertisements