BRICS Summit 2026: ভারত সরকারের সূত্র অনুযায়ী, শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইথিওপিয়া ও মালয়েশিয়ার নেতাদের সঙ্গে যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন, তা উভয় দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে নতুন কৌশলগত ও অর্থনৈতিক গতি সঞ্চার করেছে। এই বৈঠকগুলোতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, কেনাকাটা, বিনিয়োগ, খনি এবং সেমিকন্ডাক্টরের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই বৈঠকগুলো আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব জোরদার করার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লির প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ইথিওপিয়া ও মালয়েশিয়া -উভয় দেশই ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
উভয় বৈঠকেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি ছিল মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এতে যৌথভাবে কর্মী প্রশিক্ষণ এবং ভারত থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বা যন্ত্রাংশ সংগ্রহের সম্ভাবনার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এমন এক সময়ে এই আগ্রহের বিষয়টি সামনে এল, যখন ভারত প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরঞ্জাম সরবরাহের মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সাথে সামরিক অংশীদারিত্ব জোরদার ও প্রতিরক্ষা রপ্তানি বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উভয় দেশই তাদের নিজ নিজ অর্থনীতিতে ভারতীয় কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পৃক্ততার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে নয়াদিল্লি যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, তার অংশ হিসেবে এই আলোচনাগুলো ভারতীয় শিল্পখাতের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইথিওপিয়া ভারতীয় খনি কোম্পানিগুলোর প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশটির সাথে এক বৈঠকে ভারতীয় খনি কোম্পানিগুলোকে বিশেষভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। এর ফলে ইথিওপিয়ার খনি ও খনিজ খাতে ভারতীয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পথ প্রশস্ত হয়েছে। খনি খাতের ওপর এই বিশেষ গুরুত্ব এমন এক সময়ে দেওয়া হচ্ছে, যখন ভারত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের নির্ভরযোগ্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এবং সম্পদসমৃদ্ধ আফ্রিকান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে অধিকতর আগ্রহ দেখাচ্ছে। ভারতীয় কোম্পানিগুলোর বর্ধিত অংশগ্রহণ সহযোগিতার প্রথাগত ক্ষেত্রগুলোর বাইরেও দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে সহায়তা করতে পারে। এছাড়া ভারত ও ইথিওপিয়ার মধ্যকার আলোচনায় প্রতিরক্ষা খাতও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের বিষয়সহ ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে ইথিওপিয়া গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
মালয়েশিয়ার সাথে সেমিকন্ডাক্টর খাতে সুযোগ-সম্ভাবনা
এরই মধ্যে, মালয়েশিয়ার সাথে আলোচনার সময় সেমিকন্ডাক্টর খাতের সুযোগ-সম্ভাবনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে; এর মাধ্যমে ভারত ও মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক সম্পর্কে এই খাতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ভারত বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খলে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করছে; অন্যদিকে, সেমিকন্ডাক্টর সংযোজন, পরীক্ষা এবং প্যাকেজিংয়ের মতো ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে এসেছে। ফলে, এই খাতের সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আলোচনা ভারত ও মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোর মধ্যে আরও নিবিড় সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করতে পারে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, মালয়েশিয়াও ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে; এর আওতায় রয়েছে সেনা প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহের মতো বিষয়গুলো। উভয় দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান পরিধিকে তুলে ধরে – যেখানে প্রথাগত কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে প্রতিরক্ষা উৎপাদন, কৌশলগত খনিজ সম্পদ, প্রযুক্তি এবং শিল্প খাতে বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
