আগামী ১ বছরে বাংলায় তৈরী হবে ১০০০ RSS পরিচালিত স্কুল

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন (RSS schools)মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শিক্ষা শাখা বিদ্যা ভারতীর মাধ্যমে আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে…

rss-schools-west-bengal

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন (RSS schools)মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শিক্ষা শাখা বিদ্যা ভারতীর মাধ্যমে আগামী এক বছরের মধ্যে রাজ্যে অন্তত এক হাজার স্কুল স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তিনি। প্রতিটি জেলা, পৌরসভা ও পঞ্চায়েতে অন্তত একটি করে বিদ্যা ভারতী পরিচালিত স্কুল গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের।

Advertisements

বর্তমানে বাংলায় এমন স্কুলের সংখ্যা ৩১৩টি। এই ঘোষণা রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে নতুন আলোড়ন তৈরি করেছে।কলকাতার (RSS schools)গোলপার্কে রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচারে বিদ্যা ভারতীর ৭৪তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী এই কথা বলেন। তিনি সংগঠনের নেতৃত্বকে রাজ্য সচিবালয়ে শিক্ষা দফতরের সঙ্গে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানান।

   

আরও দেখুনঃ ‘মৃত্যুভয় নেই, বিচার এড়াতে দেশ ছাড়িনি’! ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার

তাঁর মতে, জাতীয়তাবাদী শিক্ষা প্রসারে বিদ্যা ভারতীকেই এগিয়ে আসতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বিশেষভাবে মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় আরও বেশি স্কুল স্থাপনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, এই দুই জেলায় অসাম্প্রদায়িক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপ বেশি দেখা যায় বলে সেখানে জাতীয়তাবাদী শিক্ষার প্রয়োজন আরও তীব্র।

Advertisements

বিদ্যা ভারতী (RSS schools)সারা দেশে ১২ হাজারের বেশি স্কুল ও ১০ হাজার বাল সংস্কার কেন্দ্র পরিচালনা করে। বাংলায় এখন পর্যন্ত ৩১৩টি স্কুল রয়েছে, যার মধ্যে কিছু পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত, কিছু অষ্টম, দশম বা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করে। সংগঠনের দাবি, এই স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভারতীয়ত্ব ও সংস্কৃতির শিক্ষা দেওয়া হয়। পূজা-পদ্ধতি ও দেশপ্রেমের চেতনা জাগানোর ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, আগের সরকারগুলো শিক্ষাব্যবস্থাকে দূষিত করেছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে বিদ্যা ভারতীর সাহায্য প্রয়োজন।একই অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষা দপ্তরগুলোকে একীভূত করার ইঙ্গিতও দেন। স্কুল শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও সংখ্যালঘু শিক্ষা এই চারটি বিভাগকে এক করে একটি মাত্র শিক্ষা দফতর গঠনের কথা বলেন তিনি। আলাদা মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর আর থাকবে না বলেও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর মতে, এক বিধান, এক নিশানের আদর্শেই শিক্ষাব্যবস্থাকে (RSS schools)এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।এই ঘোষণাকে সরকারপন্থীরা বাংলার উত্থানের অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁরা বলছেন, দীর্ঘদিনের বাম ও তৃণমূল শাসনে শিক্ষায় জাতীয় চেতনার অভাব ছিল। এখন সেই ফাঁক ভরাট করার সময় এসেছে। বিদ্যা ভারতীর স্কুলগুলো গ্রামীণ এলাকায় ইতিমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, এখানকার শিক্ষা শুধু বইয়ের পড়া নয়, চরিত্র গঠনেরও শিক্ষা দেয়।

অন্যদিকে বিরোধী মহল থেকে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, সরকারি শিক্ষাব্যবস্থার বদলে একটি নির্দিষ্ট মতাদর্শের স্কুল ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁদের মতে, শিক্ষায় কোনো সংগঠনের একচেটিয়া প্রভাব থাকা উচিত নয়। সব ধর্ম ও মতের শিশুদের জন্য নিরপেক্ষ শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের দায়িত্ব। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এটা কোনো জোরজবরদস্তি নয়। বিদ্যা ভারতী স্বেচ্ছায় স্কুল স্থাপন করবে এবং সরকার সেই উদ্যোগকে উৎসাহ দেবে।

Advertisements