অমৃতসর: পঞ্জাবের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে এক তরুণের (Punjab youth)চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। সুনামের শেরো গ্রামে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের কর্মসূচির সময় প্রতিবাদ করতে গিয়ে আটক হন এক পঞ্জাবি যুবক। আটক হওয়ার পর তিনি যে অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, তা শুনলে শরীর শিউরে ওঠে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্রের মাধ্যমে প্রচারিত এই বিবরণে এই তরুণ দাবি করেছেন, তাকে অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছে।
তাকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়েছিল। দাড়ি থেকে চুল উপড়ে নেওয়া হয়েছিল। উরুতে ব্লেড দিয়ে কাটা হয়েছিল এবং ক্ষতস্থানে লবণ ঘষে দেওয়া হয়েছিল।” এই কথাগুলো এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পঞ্জাবের রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে সম্প্রতি।
আরও দেখুনঃ ‘মৃত্যুভয় নেই, বিচার এড়াতে দেশ ছাড়িনি’! ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা হাসিনার
মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সুনাম এলাকায় এক জনসভায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে মাদকবিরোধী প্রচারণা চালানো এক তরুণ (Punjab youth)কালো কাপড় বা কালো পতাকা উঁচিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। পুলিশ তাকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেয়। পরে তরুণটি দাবি করেন, হেফাজতে থাকাকালীন তার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। বৈদ্যুতিক শক, দাড়ির চুল উপড়ে ফেলা, উরুতে ক্ষত তৈরি করে লবণ ঘষে দেওয়ার মতো ভয়ংকর বিবরণ তিনি দিয়েছেন।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র এই বিবরণ তুলে ধরে সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং পঞ্জাব পুলিশ ও আদমী পার্টির প্রশাসনের ওপর দায় চাপিয়েছেন।পুলিশের পক্ষ থেকে অবশ্য ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। সংগ্রুরের এসএসপি জানিয়েছেন, তরুণটিকে প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা পরীক্ষা ও ডোপ টেস্টের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল এসেছিল।
আরও দেখুনঃ
তবে তরুনের অভিযোগ, (Punjab youth)পুলিশ তাকে এমন কিছু খাওয়ানো হয় যার ফলে টেস্টে এমন ফল এসেছে। এই অভিযোগ এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর শিরোমণি অকালি দলের নেতারাও সরকারকে দমনমূলক আচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন। তাঁরা বলছেন, জনগণের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনা পঞ্জাবের চলতি রাজনৈতিক উত্তেজনার পটভূমিতে ঘটেছে। আদমী পার্টি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে মাদক সমস্যা, কৃষক আন্দোলন এবং ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বেশ কয়েকবার বিতর্কের মুখে পড়েছে। বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করে আসছেন যে, সরকার (Punjab youth)সমালোচনা সহ্য করতে পারছে না এবং প্রতিবাদকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কোনো অন্যায় হয়নি।
অত্যাচারিত তরুণের বিবরণ শুনে অনেকেই স্মরণ করছেন পঞ্জাবের অতীতের কিছু কালো অধ্যায়ের কথা, যেখানে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। যদিও বর্তমান ঘটনায় সেই মাত্রার নির্যাতন প্রমাণিত হয়নি, তবুও অভিযোগগুলো উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত তদন্তের দাবি তুলেছে। তাঁরা বলছেন, কোনো নাগরিককে প্রতিবাদের জন্য এভাবে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে পারে না। স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা উচিত।
