হায়দারাবাদ: অ্যামাজনের কুইক-কমার্স ব্যবসা অ্যামাজন নাও (Amazon Now) শীঘ্রই দেশজুড়ে তাদের পরিষেবার পরিধি ৩০০টি শহরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। মঙ্গলবার সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিক এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। অ্যামাজন নাও-এর ডিরেক্টর নিশান্ত সারদানা পিটিআইকে বলেন, সংস্থাটি খুব দ্রুত পরিষেবা সম্প্রসারণ করছে এবং খুব শীঘ্রই প্রায় ৩০০টি শহরে পৌঁছনোর লক্ষ্যে এগোচ্ছে।
নিশান্ত সারদানা বলেন, “আমরা খুব দ্রুত সম্প্রসারণ করছি। খুব শীঘ্রই প্রায় ৩০০টি শহরে সম্প্রসারণ করার একটি পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।” তবে ঠিক কত সময়ের মধ্যে এই ৩০০টি শহরে পরিষেবা পৌঁছে যাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা জানাননি তিনি। তাঁর কথায়, এই লক্ষ্য যত দ্রুত সম্ভব বাস্তবায়িত করতে সংস্থা নিজেদের প্রচেষ্টা চার গুণ বাড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: রেলে বিপ্লব! ৬ টি নতুন ফ্রেইট লাইন নির্মাণে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বে রেল
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে অ্যামাজন নাও পরিষেবা চালু হয়েছিল। বর্তমানে দেশের প্রায় ৩০টি শহরে এই পরিষেবা চালু রয়েছে। সংস্থার দাবি, পরিষেবা চালুর পর থেকে অ্যামাজন নাও-এর ব্যবসা ভালো গতিতে বাড়ছে। প্রতি মাসে প্রায় ২০-২৫ শতাংশ হারে ব্যবসা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন নিশান্ত সারদানা।
দেশে কুইক-কমার্স শিল্পের বার্ষিক বাজারের আকার প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে এই বাজারে অ্যামাজন নাও-এর অংশীদারিত্ব কতটা, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি সারদানা।
আরও পড়ুন: চিনির খুচরো মূল্য নিয়ন্ত্রণে স্টক ধরণের ক্ষমতা ৪ থেকে ২০০০ কুইন্টাল করল মোদী সরকার
অ্যামাজন নাও এখনও পর্যন্ত ২,৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এই বিনিয়োগের বড় অংশ পরিকাঠামো তৈরি এবং অংশীদারদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নিশান্ত সারদানা।
বর্তমানে অ্যামাজন নাও-এর ৬৫০টি মাইক্রো-ফালফিলমেন্ট সেন্টার বা এমএফসি রয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সংখ্যা ১,০০০-এর বেশি করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। বর্তমানে এই এমএফসিগুলি ৩০টি শহরে ছড়িয়ে রয়েছে। অ্যামাজন নাও তাদের ওমনিচ্যানেল কৌশলের অংশ হিসেবে কিছু ফালফিলমেন্ট সেন্টার নিজেরাই তৈরি করবে। পাশাপাশি ওমনিচ্যানেল অংশীদারদের দোকানগুলিকেও ব্যবহার করবে সংস্থা। এমএফসির পাশাপাশি এই অংশীদারদের দোকান কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের কাছে আরও দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে অ্যামাজনের।
হায়দরাবাদে অ্যামাজন নাও-এর ৫০টিরও বেশি এমএফসি রয়েছে। শহরটিতে পরিষেবা চালুর ছয় মাসের মধ্যেই মাসে প্রায় ৩৫ শতাংশ হারে ব্যবসা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সারদানা।
কুইক-কমার্স শিল্পের একাধিক সংস্থা এখনও লাভের মুখ দেখেনি। সেই পরিস্থিতিতে অ্যামাজন নাও কবে ব্রেক-ইভেনে পৌঁছবে, অর্থাৎ আয় ও খরচের ভারসাম্যে আসবে, তা জানতে চাওয়া হলে নিশান্ত সারদানা বলেন, এই ব্যবসা এখনও একেবারে শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। আপাতত সংস্থার মূল লক্ষ্য হল গ্রাহকদের সেরা পণ্যের সম্ভার দেওয়া, সেরা মূল্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়া এবং যত দ্রুত সম্ভব অর্ডার ডেলিভারি করা। সময়ের সঙ্গে লাভজনকতা আসবে বলেই মনে করেন তিনি।
অ্যামাজনের সামগ্রিক ব্যবসা সম্প্রতি ভারতে ব্রেক-ইভেনে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন সারদানা। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অ্যামাজন নাও-ও সময়ের সঙ্গে ব্রেক-ইভেনে পৌঁছবে বলে তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।
হায়দরাবাদে মুদিখানার পণ্য ছাড়াও খেলনা, পুজোর সামগ্রী এবং ফিটনেস ও শরীরচর্চার সঙ্গে যুক্ত পণ্যের চাহিদা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানিয়েছেন তিনি। গ্রাহকদের কাছাকাছি ফালফিলমেন্ট সেন্টার তৈরি করার কারণেই অ্যামাজন নাও দ্রুত পণ্য পৌঁছে দিতে পারছে বলে জানান সারদানা।
তিনি আরও জানান, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য ডেলিভারি কর্মীদের উপর কোনও চাপ দেওয়া হচ্ছে না। গ্রাহকদের কাছে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য পরিকাঠামোকে কাছাকাছি নিয়ে আসাকেই অ্যামাজন নাও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
