নয়াদিল্লি: ভারত এখন ‘ওয়ান কান্ট্রি, ওয়ান টাইম’ বা এক দেশ,(One Country One Time) এক সময়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লিগ্যাল মেট্রোলজি (ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম) রুলস, ২০২৬ নোটিফাই করেছে। এই নিয়ম অনুযায়ী আগামী মার্চ ২০২৭ থেকে দেশের সব আইনি, প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক ও ডিজিটাল কাজকর্মে ভারতীয় মানক সময় বা আইএসটি ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে।
সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সময় দিয়েছে ১৮০ দিন।(One Country One Time) এই সময়ের মধ্যে সবাইকে নিজেদের সিস্টেম আইএসটির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে।নতুন নিয়মটি গেজেটে প্রকাশের ১৮০ দিন পর কার্যকর হবে। ফলে আনুমানিক মার্চ ২০২৭ থেকেই এটি পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে। নিয়ম ভাঙলে লিগ্যাল মেট্রোলজি অ্যাক্ট অনুযায়ী জরিমানা হতে পারে।
আরও দেখুনঃ পাহাড় ফুঁসলেই ধুয়েমুছে যাবে সমতল! নেপালের প্রলয়ের পরই বাংলা নিয়ে ভয়াবহ সতর্কবার্তা
সরকার স্পষ্ট করেছে, আইনি নথি, প্রশাসনিক কাগজপত্র, বাণিজ্যিক চুক্তি, আর্থিক লেনদেনসহ সব অফিসিয়াল কাজে এখন থেকে শুধু আইএসটিই ব্যবহার করতে হবে। বিদেশি সময় অঞ্চল যদি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় বা বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নেভিগেশন ও জ্যোতির্বিদ্যার মতো বিশেষ ক্ষেত্রে অনুমোদিত বিকল্প সময় ব্যবহারের অনুমতি থাকলে সেটি আলাদা।
কিন্তু সাধারণ অফিসিয়াল কাজে অন্য কোনো সময়ের উৎস ব্যবহার করা যাবে না।এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে আধুনিক ডিজিটাল পরিকাঠামোর চাহিদা। আজকের দিনে ব্যাংকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট, স্টক এক্সচেঞ্জ, টেলিকম নেটওয়ার্ক, ৫জি সেবা, রেলপথ, বিদ্যুৎ গ্রিড, ডেটা সেন্টার সবকিছুই মাইক্রোসেকেন্ডের নির্ভুল সময়ের ওপর নির্ভর করে।
সামান্য সময়ের পার্থক্যও লেনদেনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, (One Country One Time)নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা কমাতে পারে বা সমন্বয়ে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সরকার চায় পুরো দেশ একই নির্ভুল সময়ের ছন্দে চলুক। সিএসআইআর-ন্যাশনাল ফিজিক্যাল ল্যাবরেটরি বা এনপিএল ভারতের প্রাথমিক সময় স্কেল বজায় রাখে। সেখান থেকেই আইএসটি তৈরি হয়।
আঞ্চলিক ল্যাবরেটরি, ইসরোর নাভিক এবং অন্যান্য অনুমোদিত উৎস এই সময় ছড়িয়ে দেবে।বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে এই পরিবর্তনের প্রভাব স্পষ্ট হবে। ব্যাংকিং ও পেমেন্ট সিস্টেমে লেনদেনের সময় স্ট্যাম্প এখন আরও নির্ভুল হবে। রেলওয়ে ও বিমানবন্দরের সময়সূচি একসঙ্গে চলবে। টেলিকম ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক আরও স্থিতিশীল হবে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়বে।
সরকারি ও আইনি নথিপত্রেও সময়ের অমিল থাকবে না। (One Country One Time)জরুরি সেবাগুলোও আরও দ্রুত ও নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি বলেছেন, প্রতিটি ডিজিটাল পেমেন্ট থেকে শুরু করে প্রতিটি ট্রেনের যাত্রা সবকিছুই নির্ভুল সময়ের ওপর দাঁড়িয়ে। এই নিয়মের মাধ্যমে পুরো ভারত একই সময়ের ছন্দে বাঁধা পড়বে।
