ফারাক্কায় আংশিক ভাবে চালু হল ৬২২.০৪ কোটির ৫.৪৬৮ কিলোমিটারের ৪ লেনের সেতু

শিলিগুড়ি: ফারাক্কায় গঙ্গার ওপর নতুন চার লেনের সেতু এখন আংশিকভাবে চালু হয়েছে (Farakka)। একটি লেন ইতিমধ্যেই যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এই সেতু উত্তর ও…

farakka-four-lane-bridge

শিলিগুড়ি: ফারাক্কায় গঙ্গার ওপর নতুন চার লেনের সেতু এখন আংশিকভাবে চালু হয়েছে (Farakka)। একটি লেন ইতিমধ্যেই যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এই সেতু উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে যোগাযোগের এক বড় বাধা দূর করতে সাহায্য করবে। ৬২২.০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫.৪৬৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পে অ্যাপ্রোচ রোডও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই সেতুর অগ্রগতি এখন ৯৬ শতাংশে পৌঁছেছে।

Advertisements

পুরনো ফারাক্কা ব্যারেজের পাশেই এই নতুন সেতু গড়ে তোলা হয়েছে। (Farakka)দীর্ঘদিন ধরে ব্যারেজের ওপর দিয়ে যান চলাচলের চাপ অত্যধিক ছিল। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গে বা তার উল্টোদিকে যেতে গিয়ে যানজট লেগে থাকত। নতুন সেতু চালু হওয়ার ফলে সেই চাপ অনেকটাই কমবে। একটি লেন খুলে দেওয়ায় ইতিমধ্যেই কিছুটা স্বস্তি মিলতে শুরু করেছে। বাকি লেনগুলোও শিগগিরই চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃ SSB-BSF কে হস্তান্তর করা হয়েছে ১,১২৯ একর জমি! উত্তরবঙ্গে ঘোষণা শাহের

এই সেতু শুধু যোগাযোগের সুবিধাই বাড়াবে না, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকেও চাঙা করবে। উত্তরবঙ্গের কৃষিপণ্য, চা ও অন্যান্য পণ্য দক্ষিণবঙ্গের বাজারে দ্রুত পৌঁছাবে। একইভাবে দক্ষিণের শিল্পপণ্যও উত্তরে সহজে পৌঁছাবে। যাত্রীদেরও ভোগান্তি কমবে। ফারাক্কা এলাকায় দীর্ঘ যানজটের কারণে যে সময় ও জ্বালানি নষ্ট হত, তা এখন অনেকটাই বাঁচবে।সেতু চালুর এই সময়টা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Advertisements

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলচুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর(Farakka)। ত্রিশ বছর পর এই চুক্তির নবায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ একটি ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ চাইছে। অর্থাৎ জলের হিস্যার বিষয়ে আরও নিশ্চয়তামূলক শর্ত যোগ করার দাবি জানাচ্ছে।বাংলার দৃষ্টিকোণ থেকে ফারাক্কা ব্যারেজ ও গঙ্গার প্রবাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মালদা ও মুর্শিদাবাদ জেলায় দীর্ঘদিন ধরে গঙ্গার ভাঙন ও বন্যার সমস্যা চলে আসছে।

আরও দেখুনঃ নজরে জাতীয় নিরাপত্তা! ‘চিকেনস নেক’-এর সুরক্ষায় রেলের মেগা প্রকল্প

নদীর ভাঙনে প্রতি বছর অনেক পরিবার গৃহহীন হন। (Farakka)ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। রাজ্য সরকার বারবার শক্তিশালী ভাঙন প্রতিরোধী কাজ, ড্রেজিং ও ব্যারেজ ব্যবস্থাপনার উন্নতির দাবি জানিয়ে আসছে।নতুন সেতু চালু হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলেও গঙ্গার ভাঙন ও জল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি আলাদা গুরুত্ব রাখে। ব্যারেজের সঠিক পরিচালনা ও নদীশাসন না হলে স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমবে না।

সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি। ড্রেজিং ও তীর রক্ষার কাজ জোরদার করতে পারলে মালদা ও মুর্শিদাবাদের মানুষ স্বস্তি পাবেন।ফারাক্কা এলাকা কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সংযোগস্থল। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জলচুক্তির কেন্দ্রবিন্দু। নতুন সেতু যোগাযোগের ক্ষেত্রে স্বস্তি এনেছে। কিন্তু জলচুক্তির নবায়ন ও ভাঙন সমস্যার সমাধান না হলে সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

Advertisements