শিলিগুড়ি: জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দেশের অন্যতম সংবেদনশীল অঞ্চল শিলিগুড়ি করিডর (Siliguri Corridor) বা ‘চিকেনস নেক’-কে (Chicken’s Neck) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর এই স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্য পূরণে এবার ভারতীয় রেলের (Indian Railways) পরিকাঠামোকে ব্যাপক ভাবে কাজে লাগাচ্ছে কেন্দ্র। যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি করিডরের নিরাপত্তা ও পণ্য পরিবহণ ক্ষমতা বাড়াতে মালদা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) পর্যন্ত চতুর্থ বা ফোরথ রেললাইনের অনুমোদন দিল রেলমন্ত্রক।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’?
শিলিগুড়ির এই ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলটি চওড়ায় মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার। মুরগির গলার মতো আকৃতির এই অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ ভূখণ্ডটি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে ভীষণ সংবেদনশীল। কারণ, এটিই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতের আটটি রাজ্যের (অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, মেঘালয়, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা ও সিকিম) যোগাযোগের একমাত্র স্থলপথ। এর পশ্চিমে নেপাল, উত্তরে ভুটান, দক্ষিণ ও পূর্বে বাংলাদেশ। কিছুটা দূরেই ওত পেতে রয়েছে চিন। তাই এই অঞ্চলে রেলের বিস্তার ঘটলে জাতীয় নিরাপত্তা মজবুত হওয়ার পাশাপাশি সেনা ও জরুরি পণ্য আদানপ্রদানে বড় সুবিধা হবে।
মালদা-NJP ফোরথ লাইনে সবুজ সংকেত
প্রাথমিকভাবে মালদা-নিউ জলপাইগুড়ি সেকশনে থার্ড লাইন তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও, করিডরের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরাসরি ফোরথ লাইনের অনুমোদন দিয়েছে রেলমন্ত্রক। নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের (NFR) জেনারেল ম্যানেজার চেতনকুমার শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, “মালদা-নিউ জলপাইগুড়ি সেকশনে ফোরথ লাইনের অনুমোদন মিলেছে। এর ফলে এই পথে আরও বেশি ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। শিলিগুড়ি করিডরের স্ট্র্যাটেজিক গুরুত্ব মাথায় রেখেই রেল এই করিডরের ক্যাপাসিটি বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।” এটি মূলত কাটিহার ডিভিশনজুড়ে চলা বৃহত্তর রেল পরিকাঠামো সম্প্রসারণ পরিকল্পনারই অংশ।
নতুন সাজে NJP স্টেশন, বাড়ছে ট্রেনের সংখ্যা
রেল সূত্রে খবর, নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনকে অত্যাধুনিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে। ২০২৭ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যেই নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করবে NJP। পাশাপাশি বারসই সেকশনে রেললাইন ডাবলিংয়ের কাজও চলছে। গত বছরেই কাটিহার ডিভিশন ও বিভিন্ন রুটে ৪২টি নতুন ট্রেন চালু করেছে ভারতীয় রেল, দেওয়া হয়েছে ২৫০টি অতিরিক্ত স্টপেজ।
উত্তর-পূর্ব ভারতে যোগাযোগে বিপ্লব
নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের পুরো নেটওয়ার্কে ইতিমধ্যেই ১০০ শতাংশ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আগামী দিনে উত্তর-পূর্ব ভারতে রেল যোগাযোগের আরও সম্প্রসারণ হতে চলেছে। জোগবানি, রাধিকাপুর ও বালুরঘাট থেকে নতুন লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে রেলের। পাশাপাশি গুয়াহাটি থেকে ‘বন্দে ভারত’ (Vande Bharat) এক্সপ্রেসের পরিষেবা তিনসুকিয়া ও ত্রিপুরা রাজধানী আগরতলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের ব্লু-প্রিন্টও তৈরি করা হচ্ছে।
ভাঙড়ে ফের রাজনৈতিক চমক! ‘স্বৈরাচারী’ তকমা দিয়ে আইএসএফ ছাড়লেন আরাবুল
কোচবিহার থেকে দিল্লি ISI র সন্ত্রাস ভেঙে দিয়ে গ্রেফতার একাধিক সিম পাচারকারী গুপ্তচর
