বন্দে মাতরমে ২ স্তবকেই সিলমোহর কংগ্রেসের, ‘নতুন মুসলিম লিগ’ কটাক্ষ বিজেপির

নয়াদিল্লি: জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) সম্পূর্ণ গাওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি চরম রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এর মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিল…

নয়াদিল্লি: জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram) সম্পূর্ণ গাওয়া হবে কি না, তা নিয়ে সম্প্রতি চরম রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। এর মাঝেই বড় সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি (CWC)। বুধবার দলের শীর্ষ নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভবিষ্যতে দলের সমস্ত অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রথম দু’টি স্তবকই গাওয়া হবে। ১৯৩৭ সালে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক কমিটির নেওয়া প্রস্তাব মেনেই এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হচ্ছে। আর কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের পরই তাদের ‘নতুন মুসলিম লিগ’ বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি (BJP)।

Advertisements

কংগ্রেসের যুক্তি ও ১৯৩৭ সালের প্রস্তাব

বুধবার চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা CWC বৈঠকের পর দলের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল জানান, বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে দলের অন্দরে কোনও বিভ্রান্তি নেই। ১৯৩৭ সালে মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুভাষচন্দ্র বসু এবং সর্দার প্যাটেলের মতো বরিষ্ঠ নেতাদের উপস্থিতিতে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কংগ্রেস আজও সেই পথেই হাঁটবে।

   

দলের আরেক সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ জানান, ১৯৩৭ সালের ২৮ অক্টোবর বন্দে মাতরম নিয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করেছিল CWC। তিনি বলেন, “কংগ্রেস সবসময়ই মেনে এসেছে যে ‘জন গণ মন’ হল জাতীয় সঙ্গীত (National Anthem) এবং ‘বন্দে মাতরম’ হল জাতীয় গীত (National Song)।” বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি আরও বলেন, “বেকারত্ব, পরীক্ষা দুর্নীতি, ‘চাঁদা চুরি’ এবং বিদেশ নীতির ব্যর্থতার মতো আসল সমস্যাগুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে এই অবান্তর বিতর্ক তৈরি করছে।”

এর আগে মঙ্গলবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেও জানিয়েছিলেন, গান্ধীজি, নেহরু থেকে শুরু করে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীও এই একই নিয়ম মেনে বন্দে মাতরমের দুটি স্তবকই গাইতেন।

Advertisements

বিজেপির তোপ: ‘নতুন মুসলিম লিগ’

কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে বিজেপি। জাতীয় গীতকে অসম্মান করার অভিযোগ তুলে কংগ্রেসের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির।

বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, “সম্পূর্ণ বন্দে মাতরম গাইতে অস্বীকার করে কংগ্রেস প্রমাণ করে দিল যে স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর তাদের কোনও একচেটিয়া অধিকার নেই।” কংগ্রেসকে ‘নতুন মুসলিম লিগ’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “১৯৩১ সালে মুসলিম লিগ বন্দে মাতরমের সম্পূর্ণ অংশ গাওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছিল। আজ সংসদ কর্তৃক আইন পাশ হওয়ার পরও কংগ্রেস সেই একই জেদ বজায় রেখেছে। তারা নিজেদের দেশের সংবিধান এবং সংসদের ঊর্ধ্বে বলে মনে করছে।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি দক্ষিণ গোয়ায় একটি জনসভায় মল্লিকার্জুন খাড়্গের ‘অসম্পূর্ণ’ বন্দে মাতরম গাওয়া নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়, যা এখন জাতীয় রাজনীতিতে নয়া মাত্রা যোগ করেছে।

ইটের বদলে পাটকেল! দিল্লিতে পাক হাই কমিশনের বাইরের ব্যারিকেড সরাল ভারত

চুক্তি শেষ হচ্ছে! গঙ্গার জল সুরক্ষিত করতে ভারতের কাছে গ্যারান্টি ক্লজ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানাল বাংলাদেশ

Advertisements