বাঁকুড়া: ফের কারখানায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বাঁকুড়ার বড়জোড়া থানার ঘুটগোড়িয়া শিল্প তালুকের একটি ইস্পাত কারখানায় বিস্ফোরণের জেরে গুরুতর জখম হলেন তিন শ্রমিক। বৃহস্পতিবার ভোরের এই ঘটনায় কারখানার অন্দরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়। আহত শ্রমিকদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের দুর্গাপুরের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্য কর্মীরা।
কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ওই ইস্পাত কারখানায় আচমকা ব্লাস্ট হয়। কারখানার শ্রমিক সুমন্ত মণ্ডল জানান, ইস্পাত গলানোর মেশিনের তলা থেকে গ্যাস লিক হচ্ছিল। ফার্নেসে লোহা গলানোর সময়ে আচমকাই গলিত লোহা ছিটকে এসে ওই তিন শ্রমিকের গায়ে লাগে।
ঘটনায় গুরুতরভাবে ঝলসে যান বড়জোড়ার হাট-আশুরিয়ার বাসিন্দা জীবন ঘোষ বাউড়ি, দুর্গাপুরের বাসিন্দা শিবশঙ্কর রায় এবং বিহারের বাসিন্দা রাজেশ কুমার সিং। প্রথমে তড়িঘড়ি করে তাঁদের বড়জোড়া সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দুর্গাপুরের হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসকরা।
নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ শ্রমিকদের
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কারখানার ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মীরা। স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানায় কর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। এমনকি এত বড় একটি কারখানার নিজস্ব কোনও অ্যাম্বুল্যান্সও নেই। এর আগেও এই কারখানায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তাঁদের। অবিলম্বে কর্মীদের নিরাপত্তার দিকে কড়া নজর দেওয়ার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
ম্যানেজমেন্টের দাবি
যদিও শ্রমিকদের তোলা এই গাফিলতির সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। ম্যানেজমেন্টের দাবি, কারখানায় অ্যাম্বুল্যান্স রয়েছে এবং সেফটি প্রোটোকল বা নিয়ম মেনেই সমস্ত কাজ করা হয়। আপাতত পুলিশ পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।
ফাতাহ-৩ পরীক্ষার প্রস্তুতি? ৭৫০ কিমি আকাশসীমা বন্ধ পাকিস্তানের
খড়গপুর থেকে ভদ্রক রেলপথ উন্নয়নে ৩,৩৫২ কোটি অনুমোদন মোদী সরকারের
